ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ঘোষণা করেছেন, এই গ্রীষ্মে বা সামারে নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সকল অফিশিয়াল ‘ফ্যান ফেস্ট’ ইভেন্টগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে।
প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরের একটি হলো নিউইয়র্ক সিটি। গত নভেম্বরে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মামদানি এই অভিজ্ঞতাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরো সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন এবং ফিফার উচ্চ প্রবেশমূল্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মেয়রের এই সর্বশেষ প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, ‘নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ওয়ার্ল্ড কাপ হোস্ট কমিটি’র সাথে যৌথভাবে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে একটি করে বহুদিনব্যাপী ফ্যান ইভেন্ট আয়োজন করা হবে।
হোস্ট কমিটির সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, ‘বিশ্বের এই খেলাটি সত্যিই পুরো বিশ্বকে এক সুতায় বাঁধে। যেহেতু আমরা আমাদের বাড়ির আঙিনায় বিশ্বকাপের আয়োজন করতে যাচ্ছি, তাই ভক্তদের জন্য এই স্মৃতিগুলো তৈরি করা যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী করতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করতে চাই।’
নিজে একজন ফুটবল অনুরাগী হওয়ায় মামদানি আরো যোগ করেন, ‘জীবনের সেরা জিনিসগুলো যদি বিনামূল্যে পাওয়া যায়, তবে বিশ্বকাপের ফ্যান এক্সপেরিয়েন্সও তেমনি হওয়া উচিত। এই ইভেন্টগুলো শুরুতে বিনামূল্যে করার কথা ছিল না, কিন্তু এ খেলাটি বিশ্বের সবার হওয়া উচিত।’
কুইন্সে ফ্যান ইভেন্টটি ১১-২৭ জুন ইউএসটিএ বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে; ম্যানহাটানে ভক্তরা ৬-১৯ জুলাই রকফেলার সেন্টারের ফ্যান ভিলেজে সমবেত হবেন; ব্রঙ্কসে ১৩-১৪ জুন ব্রঙ্কস টার্মিনাল মার্কেটে এটি অনুষ্ঠিত হবে; স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সমর্থকরা ২৯ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত স্ট্যাটেন আইল্যান্ড হসপিটাল কমিউনিটি পার্কে একত্রিত হবেন; এবং ব্রুকলিনে ১৩ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে এই অনুষ্ঠান চলবে।
মামদানি পরিশেষে বলেন, ‘নিজের সঞ্চয়ে হাত না দিয়েই যেন প্রতিটি ভক্ত পৃথিবীর সেরা এই টুর্নামেন্টটি দেখার সুযোগ পায়। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে প্রথমটি গ্রহণ করলাম।’
ফিফার টিকেট মূল্য এবার এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি, অনেক ক্ষেত্রে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আসনের তুলনায় দাম চারগুণ বেড়েছে, যার কারণ হিসেবে রয়েছে সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতি। মামদানি এই বিষয়ে নিজের মতামত জানাতে দ্বিধা করেননি।
সেপ্টেম্বরে যখন প্রথম টিকেট বিক্রি শুরু হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘এই বিশ্বকাপের টিকেট প্রক্রিয়ায় ফিফার দৃষ্টিভঙ্গি তাদের আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় নজিরবিহীন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যা অনেক নিউ ইয়র্কবাসীকে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে।’ পরবর্তী ধাপগুলোতে টিকেটের দাম আরো বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে ফিফা সীমিত সংখ্যক ‘সাপোর্ট এন্ট্রি টায়ার’ টিকেট ছাড়ে যার দাম ৬০ ডলার, যা প্রতি ম্যাচে মাত্র ১,০০০টি আসনের সমান।
সেই ঘোষণার পর ডিসেম্বরে মামদানি আরো বলেন : “মাত্র ১.৬% আসনের জন্য ৬০ ডলারের ‘সাপোর্টার টিকেট’ যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যখন ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকেট মূল্য নির্ধারণ করেছে। হাজার হাজার মানুষ দাবি তুলেছেন যেন এটি এমন একটি টুর্নামেন্ট হয়, যা নিউইয়র্কবাসীরা বহন করতে পারে। আমাদের আসলে যা প্রয়োজন তা হলো : ডায়নামিক প্রাইসিং বন্ধ করা, পুনঃবিক্রয় মূল্যের সীমা নির্ধারণ করা এবং স্থানীয় ভক্তদের জন্য ১৫% টিকেট ছাড়ে বরাদ্দ রাখা। এ সুন্দর খেলাটি সবার জন্য হতে হবে।”

















