ছবি: সংগৃহীত
জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, আগামী মাসে চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার স্থিতিশীল রাখার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর তিনি এই ঘোষণা দেন।
কয়েক দশকের নজির ভেঙে এক নাটকীয় পদক্ষেপে পাওয়েল নিশ্চিত করেছেন, ১৫ মে চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসেবে থেকে যাবেন। ২০২৮ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে থাকার যোগ্যতা তার রয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদেই তিনি পদত্যাগ করছেন না। ফেডারেল রিজার্ভের সদর দফতর সংস্কারের কাজে অতিরিক্ত ব্যয়-সংক্রান্ত একটি তদন্তের জেরে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যাকে পাওয়েল ইতিপূর্বে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার পাওয়েল বলেন, ‘আমি বলেছি, যতক্ষণ না এই তদন্ত স্বচ্ছতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ আমি বোর্ড ছাড়ব না; আমি আমার সেই সিদ্ধান্তে অটল আছি।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল অবসরে যাওয়ার... কিন্তু গত তিন মাসে যা কিছু ঘটেছে, তাতে আমার কাছে থেকে যাওয়া এবং অন্তত এই সময়টুকু পর্যন্ত বিষয়গুলো সামলানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের পাওয়েল বলেন, ‘ফেডের ওপর একের পর এক আইনি আক্রমণের বিষয়টি আমাকে সত্যি ভাবিয়ে তুলছে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আমাদের মুদ্রানীতি পরিচালনার সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।’ তিনি আরো জানান, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের নিয়মিত সমালোচনার গ-ি ছাড়িয়ে গেছে এই চাপ। এসব আইনি চ্যালেঞ্জকে তিনি তাদের ‘১১৩ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করেন যে এগুলো ‘প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
তবে পাওয়েল জোর দিয়ে বলেন, তার পরবর্তী ভূমিকা হবে সীমিত। তিনি বলেন, ‘১৫ মে চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমি আরো কিছুদিন গভর্নর হিসেবে সেবা দিয়ে যাব... গভর্নর হিসেবে আমি অনেকটা নিভৃতেই কাজ করার পরিকল্পনা করছি।’
নীতি নির্ধারকরা ১১-১ ভোটে মূল সুদের হার ৩.৫% থেকে ৩.৭৫% এর মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই সিদ্ধান্তের আড়ালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে ক্রমবর্ধমান বিভক্তিও ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে সামনের মাসগুলোতে ঋণের খরচ চড়া রাখা হবে নাকি কমানো শুরু হবে, তা নিয়ে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ায় তিনজন কর্মকর্তা, যারা একটি অস্বাভাবিক বড় ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, সুদহার বাড়ানোর চেয়ে কমানোর সম্ভাবনা বেশি থাকার নির্দেশনার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, আরেকজন কর্মকর্তা ঠিক উল্টা অবস্থান নিয়ে অবিলম্বে সুদহার কমানোর দাবি জানান।
গত সপ্তাহে বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়েলের বিরুদ্ধে তাদের ফৌজদারি তদন্ত শেষ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়াশিংটন সদর দফতরের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সংস্কার কাজে ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছিলেন কি না, তা নিয়েই মূলত তদন্তটি চলছিল।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানান, প্রসিকিউটররা মামলাটি প্রত্যাহার করছেন এবং বিষয়টি ফেডারেল রিজার্ভের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করছেন, যিনি প্রকল্পটি পর্যালোচনা অব্যাহত রাখবেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ফৌজদারি তদন্ত আবার শুরু হতে পারে।
এই তদন্তটি শুরুতেই আদালতে সন্দেহের মুখে পড়েছিল। একজন ফেডারেল বিচারক বলেছিলেন যে, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সমন জারি করার সময় প্রসিকিউটররা অন্যায়ের স্বপক্ষে কার্যত কোনো প্রমাণই উপস্থাপন করতে পারেননি।

















