ছবি: সংগৃহীত
লং আইল্যান্ডের সাফোক কাউন্টিতে পুলিশ গত এক বছরে তাদের বিতর্কিত ‘ফ্লক সেফটি’ এআই-চালিত নজরদারি ক্যামেরার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত হ্যাম্পটনসসহ সাফোকের ইস্ট এন্ড অঞ্চলকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের ৫,৪২,৫০০ ডলারের এক অনুদানের মাধ্যমে কেনা এই নতুন প্রযুক্তি সাফোকের কাউন্টি পরিচালিত ক্যামেরার সংখ্যা ২৫টি থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬০টিতে উন্নীত করেছেÑযা গত শরতের তুলনায় ১৪০ শতাংশ বেশি। এর বাইরেও স্থানীয় বিভিন্ন নগরী, গ্রাম এবং বেসরকারি আবাসন কমিটির উদ্যোগে আরও শত শত ক্যামেরা বসানো রয়েছে, যা সরাসরি পুলিশের সাথে তথ্য শেয়ার করে। পার্শ্ববর্তী নাসাউ কাউন্টির চিত্রসহ পুরো লং আইল্যান্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ নজরদারির অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
এই ক্যামেরাগুলো রাস্তায় যাতায়াতকারী প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স প্লেট এবং গাড়ির নানাবিধ খুঁটিনাটি (যেমন : টোকা খাওয়া দাগ, বাম্পার স্টিকার ইত্যাদি) স্ক্যান করে জমা রাখে। কোনো ওয়ারেন্ট বা আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ সারাদেশে ব্যবহৃত এই তথ্যভা-ার অনুসন্ধান করতে ও গাড়ির অবস্থান ট্র্যাক করতে পারে।
নতুন ৩৫টি ক্যামেরার মধ্যে ১৬টি বসানো হয়েছে সাউথ্যাম্পটন, রিভারহেড, সাউথহোল্ড, স্যাাগ হারবার ও ইস্ট হ্যাম্পটন ভিলেজের রুটিং ১১৪ এবং লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ের এক্সিট ৭১-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে।
সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ব্যাপক নজরদারিকে জর্জ অরওয়েলের ‘বিগ ব্রাদার’-এর মতো সর্বব্যাপী নজরদারির সাথে তুলনা করেছেন। এটি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী (ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার) লঙ্ঘন করে বলে সারাদেশে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, কেবল জুন মাসেই পুলিশ ট্রাফিক লঙ্ঘন থেকে শুরু করে ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদ’-এর অজুহাতে ৩,০০০ বার এই ডেটাবেসে ম্যানুয়াল সার্চ করেছে। সারাদেশে প্রায় ১০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য ফ্লকের তথ্য অপব্যবহারের দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন (যেমন : এক পুলিশ প্রধান তার সাবেক প্রেমিকা ও তার মেয়েকে ট্র্যাক করতে প্রায় ৬০০ বার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন।
সাফোক কাউন্টি সম্প্রতি কোম্পানিটির সাথে ৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে ‘রেভেন’ নামক বিতর্কিত সাউন্ড-লিসেনিং বা আড়ি পাতার সিস্টেম বসানোর কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত একটি নতুন ফেডারেল আইনের আওতায় এই ধরনের ফ্লক সিস্টেম ব্যবহারকারী কাউন্টি ও নগরীগুলোর ফেডারেল ফান্ডিং বা সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

















