শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

২০৯ স্কুলে ২০০  জনেরও কম  শিক্ষার্থী

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:৫০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০৯ স্কুলে ২০০  জনেরও কম  শিক্ষার্থী

ছবি সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির অর্থনৈতিক তদারকি সংস্থা মামদানি প্রশাসনকে ভয়াবহ শিক্ষার্থী-সংকটে ভোগা সরকারি স্কুলগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেÑ একই সাথে নগরীর শিক্ষা সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে একটি চোখ খুলে দেওয়ার মতো মানচিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন বুধবার জানান যে, পাঁচ বরোজুড়েই শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমেছে। ডিপার্টমেন্ট অফ এডুকেশনের (ডিওই) তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা একটি মানচিত্র শেয়ার করে তিনি দেখান, নগরীর ২১৯টি স্কুলে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ জনেরও কম।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে লেভিন বলেন, ‘এক দশক আগে নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৮৫ হাজারে। আর আগামী এক দশকে এই সংখ্যা আরও দেড় লাখ কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
লেভিন আরও বলেন, ‘কিছু স্কুল এতই ছোট যে তারা একটি খেলার দল গঠন করার মতো শিক্ষার্থীও পায় না। এভাবে চলতে পারে না। যতই কষ্টদায়ক হোক না কেন, দ্রুত শিক্ষার্থী কমতে থাকা স্কুলগুলোকে একীভূত করতেই হবে।’
এটি এখন মেয়র জোহরান মামদানি এবং তার চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেবল কমেইনি, যারা ভর্তি আছে তারাও নিয়মিত স্কুলে আসছে না। দ্য পোস্ট বুধবার ভোরে একটি প্রতিবেদনে জানায়, কনি আইল্যান্ডের পিএস ১৮৮ স্কুলের ৬০% শিক্ষার্থীই দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিত ছিলÑ অর্থাৎ তারা গত বছর অন্তত ১৮ দিন বা মোট ক্লাসের ১০% অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া সেখানকার প্রায় ৬০% শিক্ষার্থী গত বছরের প্রমিত গণিত ও পাঠ্য পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে।
পুরো নগরীজুড়ে গড়ে ৩৩% শিক্ষার্থী দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনুপস্থিত থাকে। পিএস ১৮৮ স্কুলে বর্তমানে প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
তবে চ্যান্সেলর স্যামুয়েলস এবং শিক্ষা বিভাগ (ডিওই) জানিয়েছে, তারা এই সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন না।
ডিওই-এর মুখপাত্র নিকোল ব্রাউনস্টেইন বলেন, ‘যেকোনো আকারের প্রতিটি স্কুলেরই নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং নির্দিষ্ট একটি কমিউনিটি রয়েছে।’
ব্রাউনস্টেইন আরও বলেন, ‘আমরা যখন কঠিন আলোচনা ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আমাদের স্কুল ও অভিভাবকদের সাথে যুক্ত হচ্ছি, তখন একটি ভবনের পরিবর্তন হলেও শক্তিশালী স্কুলগুলোর মূল ভিত্তিগুলো টিকিয়ে রাখা অপরিহার্য। এই কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং সবার সহযোগিতায় এটি করতে পারলে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবেÑ যেখানে প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা, প্রকৃত মেলবন্ধন ও নিরাপত্তার সুযোগ পাবে।’
সম্প্রতি হাজার হাজার নতুন শিক্ষকের এক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর স্যামুয়েলস দিন দিন ছোট হতে থাকা এই শিক্ষা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।
কম শিক্ষার্থীর কারণে বাজেট সংকটের মুখোমুখি হতে হয় বলে এই ছোট স্কুলগুলোতে বড় স্কুলগুলোর মতো বৈচিত্র্যময় কোর্স ও কর্মসূচি পরিচালনার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না।
তবে কোনো স্কুল একীভূত করা বা বন্ধ করে দেওয়ার আগে শিক্ষা বিভাগ বেশ কয়েকটি বৈঠক করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অভিভাবকদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
 

শেয়ার করুন: