ছবি সংগৃহীত
গত আগস্টে পাঁচ বরোতে (নিউ ইয়র্কের পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চল) প্রথম কোনো মানুষের শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন নিউ ইয়র্কার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্ট (স্বাস্থ্য বিভাগ) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের ২৩টি কেস রেকর্ড করেছে, যার মধ্যে ব্রুকলিনে আটজন, কুইন্সে পাঁচজন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে পাঁচজন, ব্রঙ্কসে তিনজন এবং ম্যানহাটনে দুজন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর মতে, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস প্রধানত আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায় এবং সাধারণ মেলামেশা বা যোগাযোগের মাধ্যমে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত জুন মাস থেকেই পাঁচটি বরোতেই সংগৃহীত মশার দলে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গত ১৬ জুন প্রথম পজিটিভ মশার দল চিহ্নিত হয়।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরো নগরীজুড়ে ১,৬০০টিরও বেশি মশার দল এই ভাইরাসে পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে যাদের লক্ষণ দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথা, র্যাশ বা চর্মরোগ এবং অবসাদগ্রস্ততার মতো মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও মেরুদ-কে আক্রান্ত করে এমন গুরুতর রোগ হতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহনকারী মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে ভোর এবং সন্ধ্যার সময়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের এই সময়ে বাইরের কাজকর্ম সীমিত রাখা, পোকামাকড় তাড়ানোর ওষুধ (ইনসেক্ট রিপেলেন্ট) ব্যবহার করা এবং বাইরে বের হলে লম্বা হাতা শার্ট ও প্যান্ট পরার মতো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটিতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি থাকে, যা আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছায়।
জাতীয় পর্যায়ে, সিডিসি এ বছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মানুষের শরীরে ৬৭০টিরও বেশি ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কেস রিপোর্ট করেছে।

















