ছবি সংগৃহীত
প্রতি ১০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের (পেডিয়াট্রিশিয়ান) ৪ জন জানিয়েছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও জটলার আশঙ্কায় অভিবাসী পরিবারের শিশুরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা এড়িয়ে চলছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি নতুন জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রিপোর্ট স্টেইটলাইন।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের গবেষকদের পরিচালিত এই জরিপে গত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ১,৬০০ জনেরও বেশি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সাড়া দিয়েছেন।
জরিপে চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়Ñগত এক বছরে তাদের অধীনে থাকা রোগী বা পরিবারগুলো ঘরের কোনো সদস্যের অভিবাসন মর্যাদার (ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস) চিন্তায় শিশুর চিকিৎসার জন্য আসা এড়িয়ে গেছে কি না। পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে পাঠানো এবং মেডিকেইড, চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম (সিএইচআইপি) কিংবা ফুড স্ট্যাম্পের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে আবেদন করার ক্ষেত্রেও পরিবারগুলো একই ধরনের আতঙ্ক বোধ করেছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গড়ে তাদের মোট রোগীর প্রায় চারভাগের একভাগই অভিবাসী পরিবারের। আর ৪০ শতাংশ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন, রোগী কিংবা পরিবারের অভিবাসন স্ট্যাটাস-সংক্রান্ত ভয়ের কারণে এসব পরিবার তাদের সন্তানের চিকিৎসা সেবা নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ চিকিৎসক জানিয়েছেন, অভিবাসী পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে আবেদন করা এড়িয়ে গেছে। আর এক-পঞ্চমাংশের কিছু বেশি চিকিৎসক জানান, পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছিল।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানে প্রাপ্ত সংখ্যাটি সম্ভবত বাস্তবতার চেয়ে কম, প্রকৃতপক্ষে আরও অনেক শিশু পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে।
চলতি মাসেই ‘স্টেটলাইন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসন আতঙ্কের কারণে প্রতিরোধমূলক যতœ (প্রিভেন্টিভ কেয়ার) এড়িয়ে যাওয়া এবং নির্ধারিত অস্ত্রোপচার বাতিল করার ফলে চিকিৎসকরা অভিবাসী শিশুদের মধ্যে জটিল ও গুরুতর রোগের প্রকোপ বেড়ে যেতে দেখছেন।
জরিপে চিকিৎসা সেবা প্রদান ক্ষেত্র ও বিশেষায়িত শাখার ওপর ভিত্তি করে তথ্যের কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। যেমন, সাবস্পেশালিটি পর্যায়ের প্রায় ৪৫% শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে কর্মরত প্রায় অর্ধেক (৪৮%) শিশু চিকিৎসক জানিয়েছেন যে পরিবারগুলো শিশুদের চিকিৎসায় পিছু হেঁটেছে; বিপরীতে গ্রামীণ এলাকার চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩২%।
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন ও ওবামা আমলের সেই নিয়মটি বাতিল করে দেয়, যার অধীনে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্কুলের মতো নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সাধারণ সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারতেন না।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালে দেশজুড়ে মোট শিশুর এক-কৃষ্ণাংশই এমন অভিবাসী পরিবারের সদস্য ছিল, যাদের বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই অন্য দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেনÑ অবশ্য রাজ্যভেদে এই শতকরা হারে ভিন্নতা রয়েছে।
আসন্ন শুক্রবার থেকে কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা নতুন একটি কেন্দ্রীয় নীতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। এই নীতির ফলে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট কিছু ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনাকারী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়বে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবাসন সহায়তা, খাদ্য সাহায্য, মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্সের মতো সরকারি সুবিধা গ্রহণকে ‘পাবলিক চার্জ’ (বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল বোঝা) হিসেবে গণ্য করার সুযোগ পাবেন কর্মকর্তারা, যা কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার না দেওয়ার অন্যতম গ্রাউন্ড বা ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গত সপ্তাহে এই নীতির ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাডেমি’স কাউন্সিল অন ইমিগ্র্যান্ট চাইল্ড অ্যান্ড ফ্যামিলি হেলথ-এর চেয়ার ড. সুরাল শাহ বলেন, ‘পাবলিক চার্জ নীতির এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শিশু চিকিৎসকরা দীর্ঘ দিন ধরেই সোচ্চার। কারণ আমরা জানি, এর ফলে পরিবারগুলো তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’

















