ছবি সংগৃহীত
অবশেষে সেটাই ঘটল। পেট্রোল পাম্পের প্রদর্শনী বোর্ডে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৯.৯৯ ডলার দেখাতে শুরু করেছেÑ যা এসব বোর্ডের সর্বোচ্চ প্রদর্শন সীমা।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে চলতি সপ্তাহে জানানো হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর সেড়া মেসা এলাকার একটি শেল পাম্পে ডিজেল ও পেট্রোলের বোর্ডে এই সংখ্যাটি জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। ‘গ্যাসবাডি’-র প্রধান পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান নিউ অরলিন্সের ডব্লিউডব্লিউএল রেডিও স্টেশনে টমি টাকারকে জানান যে, ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানির দাম ৯.৯৯ ডলারে পৌঁছে গেছে এবং সেখানে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৮.১৮ ডলার রেকর্ড করা হয়েছে।
ডি হান বলেন, ৯.৯৯ ডলার সংখ্যাটি মূলত ‘পাম্পের ডিসপ্লে বোর্ডের সর্বোচ্চ সীমাÑ অতিরিক্ত সংখ্যা দেখানোর মতো জায়গা পাম্পের ডিসপ্লেতে আর নেই।’ ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সাইনবোর্ডে ১০ ডলার বা তার বেশি দেখানো সম্ভব না হলেও বাস্তবে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। চলতি বছর গাড়ি কেনা ও ব্যবহারের খরচ সার্বিকভাবে বেড়েছে পেয়েছে বলেও এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
বুধবার নাগাদ ডি হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৪.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। মেমোরিয়াল ডে-র পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ এবং ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬.৩৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের সাথে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই গ্যাসের দাম হুট করে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখতে গ্যাসবাডি ‘আমেরিকাস অ্যাডেড ফিউয়েল কস্ট ক্লক’ চালু করে। বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরান অবরুদ্ধ করার ফলে পুরো গ্রীষ্মজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার বা তার বেশি ছিল।
কস্ট ক্লক পাতায় উল্লেখ করা হয়, ‘২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি ছিল। গ্যাসবাডির দাম-সংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের জ্বালানি খরচের হিসাব ব্যবহার করে তৈরি এই ঘড়িটি সরাসরি দেখাচ্ছে যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমেরিকানরা পেট্রোল ও ডিজেলে ঠিক কত টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছেন।’
গত বুধবার পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে দেখা যায়, গত ১ মার্চের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ১১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে।
সাধারণ যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী গাড়ি চালকরা হয়তো ডিজেলের দাম নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না, তবে ডি হান জানান যে দৈনন্দিন জীবনে এর একটি গভীর প্রভাব পড়ছে। তার মতে, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করলে তা ইউক্রেন যুদ্ধের কাছে গিয়ে ঠেকবে।
টকারকে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘গত রাতে রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেন ফের ড্রোন হামলা চালিয়ে সেটি অকেজো করে দিয়েছে। দেখুন, ইউক্রেন যা করছে তা নিয়ে আমি কোনো অবস্থান নিচ্ছি নাÑ নিঃসন্দেহে চার বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করেছিল এবং ইউক্রেন অবশেষে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে। কারণ রাশিয়ানদের এখন গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে এবং জ্বালানি বরাদ্দ সীমিত করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো এটি বিশ্বব্যাপী তেলের দামে প্রভাব ফেলছে, কারণ রাশিয়া ডিজেলের বিশাল উৎপাদক... বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত প্রতি ৯ ব্যারেল ডিজেলের ১ ব্যারেলই তাদের।’
ডি হান আরও বলেন, তেলের দাম কমার সবচেয়ে স্পষ্ট উপায় হলো এই সামরিক সংঘাতগুলোর অবসান হওয়া।
তিনি জানান, ‘যতক্ষণ না এই সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব পড়বে।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, [ট্রাম্প] প্রশাসন বলছে ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর’ এটি দেখা হবে, তবে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া যাক... আপনি যদি সমস্যার মূল স্পর্শই না করেন, তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।

















