ছবি সংগৃহীত
ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হাইওয়ে সেফটি অ্যান্ড মোটর ভেহিকলস (এফএলএইচএসএমভি) একটি ডেটা ফাঁসের (ডেটা ব্রিচ) শিকার হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর তারা বিষয়টি জানতে পারে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর থেকে আর নতুন কোনো তথ্য ফাঁস বা অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
‘শাইনিহান্টার্স’ নামের একটি সাইবার চাঁদাবাজ দল ফ্লোরিডার ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল ইনফরমেশন ডাটাবেস (সংক্ষেপে ‘ডেভিড’) হ্যাক করে ২ লাখের বেশি চালকের তথ্য চুরি করার দাবি করার পরই সরকারিভাবে এই সত্যতা স্বীকার করা হলো।
ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ চুরি করা তথ্যের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি বা ঠিক কোন কোন তথ্য চুরি হয়েছে তা-ও প্রকাশ্যে বলেনি। নিচে শাইনিহান্টার্সের দাবি, ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এবং চালকদের করণীয় তুলে ধরা হলো।
ফ্লোরিডার ডিএমভি ডেটা ফাঁসের সত্যতা স্বীকার এফএলএইচএসএমভি জানিয়েছে, তাদের তদন্তে দেখা গেছে তথ্য ফাঁসের মূল উৎস প্ল্যান্ট সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মচারীর অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস সম্পর্কিত তথ্য (ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড)। সংস্থাটির মতে, সেই তথ্যগুলো ওই কর্মচারীর ব্যক্তিগত ডিভাইসে অসাবধানতাবশত সংরক্ষিত ছিল, যার সুযোগ নেয় অপরাধী চক্রটি।
এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া গেল। তবে শাইনিহান্টার্স আগে যেভাবে হ্যাক করার দাবি করেছিল, এই সরকারি ব্যাখ্যার সাথে তার অমিল রয়েছে।
এফএলএইচএসএমভি জানায়, রাজ্য আইন অনুযায়ী তারা ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে বিষয়টি জানিয়েছে। সংস্থাটি ফ্লোরিডা ডিজিটাল সার্ভিস এবং ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টের সাথেও যৌথভাবে কাজ করছে। এই ফৌজদারি তদন্তটি এখনও চলমান রয়েছে এবং কর্মকর্তারা উপযুক্ত সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডা থেকে শাইনিহান্টার্স যা চুরির দাবি করছে শাইনিহান্টার্স দাবি করেছে যে তারা ‘ডেভিড’ থেকে ২ লক্ষাধিক চালকের রেকর্ড হাতিয়ে নিয়েছে। ‘ব্লিপিংকম্পিউটার’-এর তথ্য অনুযায়ী, দলটি তাদের হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে জেফরি অ্যাপস্টাইনের একটি রেকর্ড স্ক্রিনশট আকারে প্রকাশ করে। ওই স্ক্রিনশটে ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মতারিখ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নিবন্ধিত যানবাহনের বিবরণ ছিল।
একজন মানুষের শুধু সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি সংবেদনশীল বিবরণ থাকতে পারে এই ‘ডেভিড’ সিস্টেমে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা চালকের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, স্বাক্ষর, গাড়ির ইতিহাস, বিমা-সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্রে প্রবেশাধিকার পান।
তবে ঠিক কতগুলো ফাইল হ্যাক বা চুরি হয়েছে, এফএলএইচএসএমভি তা এখনও স্পষ্ট করেনি। শাইনিহান্টার্সের ২০০,০০০ তথ্য চুরির দাবিকেও সংস্থাটি নিশ্চিত করেনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্যের জন্য ‘সাইবারগাই’-এর পক্ষ থেকে এফএলএইচএসএমভি-র সাথে যোগাযোগ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হ্যাকারদের ‘পাসওয়ার্ড রিসেট’ দাবির সাথে ফ্লোরিডার তদন্তের অসঙ্গতি শাইনিহান্টার্স শুরুতে ‘ব্লিপিংকম্পিউটার’-কে বলেছিল যে তারা পাসওয়ার্ড রিসেট করার ব্যবস্থার একটি ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ‘ডেভিড’-এ অনুপ্রবেশ করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা ডিএমভি কর্মী এবং একজন এফবিআই এজেন্টের অ্যাকাউন্টসহ একাধিক অ্যাকাউন্ট দখলে নেয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে চালকদের ফাইল ও পাতাগুলো ডাউনলোড করতে শুরু করে। পরে দলটি জানায় যে তারা অ্যাকসেস হারিয়েছে এবং ধারণা করছে পাসওয়ার্ড রিসেটের ত্রুটিটি সংশোধন করা হয়েছে।
তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের তদন্ত অন্যদিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এফএলএইচএসএমভি স্পষ্ট করেছে যে, একজন পুলিশ কর্মীর ব্যক্তিগত ডিভাইসে অসাবধানতাবশত সংরক্ষিত থাকা তথ্যের সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা ভেতরে ঢুকেছিল। পাসওয়ার্ড রিসেট ত্রুটির মাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট দখলে নেওয়ার হ্যাকারদের দাবিকে সংস্থাটি সমর্থন করেনি। ফলে পাসওয়ার্ড রিসেটের গল্পটি কেবল শাইনিহান্টার্সের একপাক্ষিক বক্তব্য হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, আর ফ্লোরিডা রাজ্য সরকার প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মচারীর তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

















