শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী থাকবে এর আওতায়

নিউইয়র্ক সিটির স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটির স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

ছবি সংগৃহীত

নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। বিষয়টি এবিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছে স্কুল জেলাটি। দেশের সবচেয়ে বড় এই স্কুল জেলা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে ‘২-কে’ (প্রাক-প্রাথমিক) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যবহারে এই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই-এর ওপর এক বছরের সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। এই সময়ে তারা প্রযুক্তির প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। মেয়র বলেন, ‘টেক ইন্ডাস্ট্রি আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় যে, এআইভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা অনিবার্য ও অপরিহার্য। তবে আমরা বিষয়টি এভাবে দেখছি না।’
এ পদক্ষেপটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় এআই-বিরোধী সিদ্ধান্ত। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি ব্যবহৃত এআই সফটওয়্যার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে এবং কোনো ধরনের কমপ্যানিয়ন চ্যাটবট ব্যবহার করা যাবে না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা হাইস্কুল (নবম-দ্বাদশ) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন এআই-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করার আগেই প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সচেতন ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারে, সে জন্য বছরে দুবার এআই লিটারেসি ক্লাসের ব্যবস্থা থাকবে।
নগরীর পাবলিক স্কুল সিস্টেম গত বছর থেকেই ক্লাস চলার পুরো সময়টিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম চালুর মাধ্যমে সিটি প্রশাসন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য ছাড়াই পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি এবং নিজস্ব সৃজনশীলতা বিকাশের ওপর জোর দিচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস জানান, উদ্ভাবন মানেই কেবল আরো প্রযুক্তির ব্যবহার নয়। প্রযুক্তি যেন শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং শিক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়, সেটিই নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ তাদের মতে এটি শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে পারে। অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যেই পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, ডেটা সাজানো এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফিডব্যাক দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছেন।
তবে এর বিপরীতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেমন এআই-এর বিপদ নিয়ে নতুন করে সতর্ক করছে, তেমনি স্বাস্থ্য বিভাগও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউএস সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের হেলথ কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর ড. স্টেফানি হ্যারিডোপোলোস জানান, প্রযুক্তির কোন অংশটুকু শিক্ষণীয় এবং কোনটা ক্ষতিকর, তা স্পষ্ট করে পৃথক করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
 

শেয়ার করুন: