ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার কোম্পানি থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করে প্রায় ৩২ কোটি (৩২০ মিলিয়ন) ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। লাখ লাখ মানুষের মুদিবাজারের খরচ আকাশচুম্বী করে তোলা ডিমের দাম কারসাজির একটি কথিত চক্রের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীরা অনুসন্ধান শুরু করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই শেয়ার বিক্রির ঘটনাটি ঘটে।
‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসিসিপিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাল-মেইন ফুডস’কে প্রায় ৭০ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখা অ্যাডামস পরিবার কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে থাকা অবস্থায় তাদের শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা তুলে নেয়। ২০২২ সালের মধ্যভাগ থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকের মধ্যে ডিমের দাম, কোম্পানির মুনাফা এবং বাজারমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার সাথে সাথে এর শেয়ারের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
এই শেয়ার বিক্রির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ১৭টি অঙ্গরাজ্য অভিযোগ এনেছে যে, ক্যাল-মেইন এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশব্যাপী সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ ও খাদ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা শত শত কোটি ডিমের দাম নির্ধারণের মূল মানদ-টিকে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে টানা প্রায় তিন বছর ধরে দরপত্র ও বাণিজ্যে যোগসাজশ করেছিল।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে কোম্পানির নথিপত্রে দেখা যায়, অ্যাডামস পরিবার গত বছরের এপ্রিলে তাদের বিশেষ ক্ষমতাযুক্ত শেয়ারগুলোকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করে। এরপর গোল্ডম্যান স্যাকসের মাধ্যমে পরিচালিত একটি অফারিংয়ের আওতায় প্রতি শেয়ার ৯২.৭৫ ডলার মূল্যে প্রায় ৩০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয়।
কোম্পানির নথিপত্র অনুযায়ী, ক্যাল-মেইন ফুডস পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আরো প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার পুনর্ক্রয় করতেও সম্মত হয়েছিল। তবে এই লেনদেনের পরও পরিবারের কাছে কিছু শেয়ার থেকে যায় এবং পরলোকগত কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা জুনিয়র ফ্রেড অ্যাডামসের জামাতা ও সাবেক সিইও অ্যাডলফাস ‘ডলফ’ বেকার কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকেন।
অবশ্য ক্যাল-মেইন কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বার্ড ফ্লু এবং বাজারের অন্যান্য পরিস্থিতির কারণেই ডিমের দাম বেড়েছিল।
একটি প্রস্তাবিত মীমাংসা (যা আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় এবং এতে কোনো অপরাধ স্বীকার করা হয়নি) অনুযায়ী, ক্যাল-মেইন, ভার্সোভা এবং হিকম্যান্সকে বিভিন্ন ফুড ব্যাংকে (গরিবদের খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র) ৫ কোটি ৩০ লাখ ডিম দান করতে হবে, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোকে ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে এবং প্রতিযোগীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

















