শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

অন্তত চারটি গুলি আঘাত হানে

রমজানে ম্যাটামোরাস মসজিদে গুলিবর্ষণ

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:২২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানে ম্যাটামোরাস মসজিদে গুলিবর্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাস চলাকালে পাইক কাউন্টি ইসলামিক সেন্টারে একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যাকে পুলিশ একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার রাতে অন্তত চারটি গুলি মসজিদটিতে আঘাত হানে। ঘটনার সময় ভেতরে কেউ ছিলেন না এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
‘নিউজ ১২’-এর প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, দরজায় ও জানালায় বুলেটের ছিদ্র হয়েছে, একটি ঝাড়বাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নামাজের জায়গার ভেতরে থাকা কাঠের জুতার তাকে গুলি বিঁধে আছে।
পাইক কাউন্টি ইসলামিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জিম আবদুর রহমান বলেন, ‘একটি গুলি এই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে। তারা এখান দিয়ে সরাসরি গুলি করেছে... ঝাড়বাতি ভেদ করে সেটি অন্য দরজায় গিয়ে লেগেছে।’
আবদুর রহমান জানান, মসজিদের সদস্যরা ধারণা করছেন এটি একটি ‘ড্রাইভ-বাই’ শুটিং (চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি)। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় ভবনের পেছনের রাস্তা থেকে কেউ এই গুলিবর্ষণ করেছে।
তিনি বুলেটের আঘাতপ্রাপ্ত জায়গাটির দিকে ইশারা করে বলেন, ‘যখন এখানে কেউ ছিল না, তখন তারা রাতের বেলা পেছনের রাস্তা ব্যবহার করে এই কাজ করেছে। মহিলারা সাধারণত এখানে নামাজ পড়েন। যদি তারা তখন এখানে থাকতেন, তবে অন্তত ৫-৬ জন মহিলা গুলিবিদ্ধ হতেন।’
মসজিদের ইমাম আজজেদ্দিন সারি এই ঘটনাকে একটি ‘ঘৃণা-অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো সভ্য কাজ নয়। এটি একটি পৈশাচিক কাজ এবং দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
মোহাম্মদ আল-হমসি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি তার স্ত্রী এবং ৮ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মসজিদে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যদি এই ঘটনা ৩-৪ ঘণ্টা আগে ঘটত, তবে আমার ৮ বছর বয়সী মেয়ে বা আমার স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হতে পারতেন।’
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস-এর ফিলাডেলফিয়া শাখা অপরাধীকে গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫,০০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ইস্টার্ন পাইক রিজিওনাল পুলিশ এবং পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
পাইক কাউন্টি ইসলামিক সেন্টারটি নিউ ইয়র্কের মিডলটাউন ইসলামিক সেন্টারের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর প্রতিক্রিয়ায় অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা মিডলটাউনের মসজিদটিতে টহল জোরদার করেছে এবং ওই এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখবে।
পুলিশ এই বিষয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে ইস্টার্ন পাইক রিজিওনাল পুলিশকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
 

শেয়ার করুন: