শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

হাডসনে ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেল টানেল 

খরচ বহন করবে না ফেডারেল সরকার

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খরচ বহন করবে না ফেডারেল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের হাডসন নদীতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেল টানেল প্রকল্পের জন্য ফেডারেল সরকার কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করবে না বলে সোমবার সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও হোয়াইট হাউস এই প্রকল্পের তহবিল স্থগিত করেছিল।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে পাহাড়সম অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। প্রকল্পটি যাতে বাজেটের বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করতে তিনি আলোচনারও প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, দয়া করে এই বিবৃতিটিকে বাস্তব সত্য হিসেবে ধরে নিন যেকোনো অবস্থাতেই ফেডারেল সরকার কোনো অতিরিক্ত খরচের জন্য দায়ী থাকবে না, এক ডলারের জন্যও নয়!
ট্রাম্প প্রশাসন গত অক্টোবরে এই প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। এর কারণ হিসেবে তারা পরিবহন বিভাগের একটি নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করেছিল, যা জাতি বা লিঙ্গভিত্তিক ঠিকাদারি শর্ত আরোপকে নিষিদ্ধ করে। গেটওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা বিভাগের সব নিয়ম মেনে চলেছে।
স্বাস্থ্য বিমা ভর্তুকি নিয়ে ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্কের সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধের জেরে সরকার অচল হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই তহবিল স্থগিতের ঘটনা ঘটেছিল।
প্রকল্পটি তদারকির দায়িত্বে থাকা ‘গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশন’ ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
এর আগে নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক তহবিল স্থগিতের বিরুদ্ধে একটি অস্থায়ী আদালত আদেশ পেয়েছিল। একজন বিচারক বলেছিলেন, মঙ্গলবার থেকে ফেডারেল অর্থায়ন পুনরায় শুরু হওয়া উচিত।
গেটওয়ে প্রকল্পের অধীনে একটি নতুন টু-টিউব টানেল তৈরি এবং ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো বর্তমান নর্থ রিভার টানেলটির আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে নিউ জার্সি এবং ম্যানহাটনের মধ্যে ট্রেনের ধারণক্ষমতা বাড়বে।
নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল এক বিবৃতিতে বলেন, গেটওয়েকে একটি পন্ডশ্রম প্রকল্পে পরিণত করার ক্ষমতা কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই আছে। তার অবৈধ পদক্ষেপগুলো প্রকল্পটিকে বন্ধ করতে বাধ্য করার আগে পর্যন্ত গেটওয়ে সঠিক সময়ে এবং সঠিক বাজেটের মধ্যেই চলছিল। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে ১,০০০ কঠোর পরিশ্রমী মানুষকে কাজ হারাতে হয়েছে এবং প্রতিদিন ২ লাখ মানুষের যাতায়াত হুমকির মুখে পড়েছে।
নিজের সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আবারও সেই প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন যেখানে বলা হয়েছিল, হোয়াইট হাউস চাক শুমারকে জানিয়েছে যে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন এবং ওয়াশিংটন ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম প্রেসিডেন্টের নামে পরিবর্তন করতে রাজি হলে এই অচলাবস্থার অবসান হতে পারে।
ট্রাম্প সেই পোস্টে বলেন, পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্টেশন’ করার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু রাজনীতিবিদ এবং নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা তুলেছিলেন, আমি নই। এটি স্রেফ আরও একটি ভুয়া খবর।
 

শেয়ার করুন: