ছবি : নবযুগ
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, জেএমসি ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় লাগর্ডিয়া ম্যারিয়টে (১০২-০৫ ডিটমার্স বুলেভার্ড, ইস্ট এলমহার্স্ট. নিউইয়র্ক ১১৩৬৯) বিশেষ ফান্ড রেইজিং ডিনারের আয়োজন করেছে। ভবন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১মিলিয়ন ডলার হাতে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। তবে এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনার উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেএমসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও নির্বাহী কমিটি। কর্মকর্তারা প্রকল্পের অগ্রগতি, আধুনিকায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তাঁরা।
জেএমসির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচ. খান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান লাবু।
ফান্ড রেইজিং ডিনারে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ২৫০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ হাজার ডলার অনুদানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীদের পরিবার-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান আয়োজকগন। ফান্ডরেইজিং ডিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইন্টারফেইথ স্কলার শেখ উসমান বিন ফারুক। অতিথি বক্তা হিসেবে থাকবেন ইসলামিক স্কলার শেখ ড. জাকির আহমেদ, জেএমসির ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ এবং ইমাম শামসি আলী।
কর্মকর্তারা বলেন, মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। জেএমসির প্রায় পাঁচ দশকের এ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলবে বলে জানান কর্মকর্তারা। অতীতে বাংলাদেশিসহ প্রবাসী মুসলমানদের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে। এবারও কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এলে চলমান প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
চলমান প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি, ভবনের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়, অতিরিক্ত তলা সংযোজন এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লিফটের মাধ্যমে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণদের জন্য ভবনটি আরও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে। সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৬ সালে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়।
প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকা-ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।১৯৯৭ সালে জেএমসির নতুন মসজিদ ভবন চালু হয়।
এদিকে জেএমসি’র ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান দ্বিতল ভবনটি উন্নীত হবে চার তলায়। ফলে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ার বিদ্যমান সমস্যার অবসান ঘটবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান নির্বাহী কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ড। আনুমানিক ৪ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণভাবে অনুদানের অর্থে।
এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মসহ সকল বয়সের মানুষের জন্য নতুন এক সুযোগের সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, জেএমসির নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আরো ৫ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তন বাড়বে। ফলে বর্তমান ৯ হাজার ৮৪০বর্গফুট মিলে মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৪৩৪ বর্গফুট। বর্তমান দ্বিতীয় তলা থেকে হিফজ স্কুল তৃতীয় তলায় সরানো হলে সেখানে অতিরিক্ত আরো ১৮০জন মুসল্লির নামাজের স্থান সংকুলান হবে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় ১৯৯২ সালে বর্তমান ঠিকানার প্রাইভেট বাড়িটি ভেঙ্গে জেএমসির নতুন ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্টিত হয় জেএমসির নতুন ভবন। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জেএমসি ভবন তথা আল মামুর মসজিদ ভবনের ঘোষণা দেয়া হয়। ভবনটি নির্মাণে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। পরবর্তীতে ভবনটি দ্বিতল করা এবং পাশাপাশি আরো একটি প্রাইভেট হাউজ ক্রয় করে মসজিদ ভবনটির পরিধি বাড়ানো হয়। আল মামুর স্কুল, জামিয়া কোরানিয়া একাডেমী, উইকেন্ড ইসলামিক স্কুল জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রকল্প।
২০০১ সালে শুরু হয় হাফেজি মাদ্রাসার কার্যক্রম, যা বর্তমানে জামিয়া কোরআনিয়া একাডেমি নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে সম্প্রসারিত ভবনের কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি আল-মামুর স্কুল ও ইকরা লাইব্রেরিও যাত্রা শুরু করে।বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, হিফজ কার্যক্রম, ধর্মীয় আলোচনা, তরুণদের বিভিন্ন আয়োজন এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেএমসি। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

















