শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খোকনের শেষ  বিদায় 

নিউইয়র্ক

প্রকাশিত: ১৪:০১, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খোকনের শেষ  বিদায় 

ছবি: সংগৃহীত

কাজী আজিজুল হক খোকনকে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা দিয়ে শেষ বিদায় জানালো নিউইয়র্কের অসংখ্য মানুষ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বাদ জুমা তার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। দীর্ঘ ৩০ বছর পর শুক্রবার রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানে তার নিথর দেহ যাচ্ছে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে। অবিবাহিত খোকনের দেশের বাড়ি মাগুরা জেলার আলোক দিয়ায়। বর্তমানে তার তিন ভাই ও দুই বোন বাংলাদেশে আছেন।

জানাজায় বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা শেষবারের মত দেখে নেয় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের কাজী আজিজুল হক খোকনকে। এ সময় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। জানাজার আগে খোকনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন রানা ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে খোকনের বিষয়ে কী করা দরকার, তা নিয়ে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়।
জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর শনিবারেই নিউইয়র্কের একটি বাসষ্ট্যান্ডে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার ৫ দিন আগে তার নিখোঁজ সংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে নিউইয়র্কের গোটা বাংলাদেশী কমিউনিটি। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, দলের নেতা-কর্মী সবাই সোশাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তার সন্ধান চায়। তাকে খুজেঁ বের করার জন্য অনেক সন্ধান চালানো হয়, কিন্তু সব শেষ হয়। বেঁচে থাকার সমস্ত আশা ব্যর্থ করে দিয়ে, মৃত্যুর হীম ঘরে ঠাঁই নেয়ার খবর পাওয়া যায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে চরম দুঃসংবাদ দু:সংবাদ পায় গোটা কমিউনিটি। তাঁর এই আচমকা চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ হয়ে পরে আপামর বাংলাদেশীরা। অবশেষে হারিয়ে যাওয়ার ৫ দিন পর তার জানাজার মধ্য দিয়ে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের এক লড়ুাকু ইতিহাসের অধ্যায়।
অজাতশত্রু খোকন খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করতেন। কিন্ত সেই জীবন চলার পথে কিছু নীতিও মেনে চলেন। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও ডা. দীপুমনি ছিল তার সম্পদ-আদর্শ, চলার পথের আলোর দিশারী।
খোকন যেমন ছিলেন তার রাজনৈতিক দলের প্রতি একজন বিশ্বাসী সৈনিক, তেমনি সবার হৃদয়ে ছিলেন একজন ভালো মানুষের প্রতীক। যার জন্য কোন দল, ধর্ম, বর্ণ, বিভেদ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন এবং মাটির কাছাকাছি থাকা এই মানুষটির সব দলের মানুষের সাথে যেমন সুসম্পর্ক ছিল, তেমনি ছিল মানুষকে কাছে টানার এক যাদুকরী কৌশল।
রাজনীতির ‘পলিটিক্স’ যখন তার কাছে ঘোর অমাবশ্যার মত লাগতো তখন মাঝে মাঝে মন্তব্য করতেন ‘বর্তমানে দুনিয়া কৃত্রিমতায় ভরে গিয়েছে। আসল-নকলের পার্থক্য খুব সহজে বোঝা যায় না।’
কিছু দিন পর হয়তো অনেকেই কাজী আজিজুল হক খোকনকে ভুলে যাবে। কিন্ত নিউইয়র্কে এমন দুই/চারজন আছেন তাদের কাছ থেকে খোকনকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
 

শেয়ার করুন: