শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা বা শিশু অভিবাসনের আড়ালে 

ভয়াবহ যৌন অপরাধীরা ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রে!

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ৫ জুন ২০২৬

ভয়াবহ যৌন অপরাধীরা ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রে!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধার্থে ঝুঁকিতে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার জন্য তৈরি একটি কর্মসূচির অপব্যবহার করে যৌন অপরাধী, খুনি এবং নৃশংস গ্যাংয়ের কুখ্যাত সদস্যসহ হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করছে বলে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর একটি প্রতিবেদন, যা প্রথম ফক্স নিউজ ডিজিটাল-এর হাতে এসেছে, তা থেকে প্রকাশ পেয়েছে, কীভাবে ‘স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল’ (এসআইজে) কর্মসূচিটি জালিয়াতিতে জর্জরিত এবং প্রায়ই দেশের আইনি মর্যাদা পাওয়ার জন্য জঘন্যতম অপরাধীদের মাধ্যমে শোষিত হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি মর্যাদা (গ্রিন কার্ড) এবং পরে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। এটি মূলত সেসব অবৈধ অভিবাসী শিশুর নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যারা নির্যাতন, অবহেলা বা পরিত্যাগের শিকার হয়েছে।
ইউএসসিআইএস-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট ২০১৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এ কর্মসূচির অপব্যবহারের চিত্র প্রকাশ করেছে।
এই কর্মসূচির সুযোগ নেওয়া অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ১২০ জনের বিরুদ্ধে খুনের দায়ে গ্রেফতারের রেকর্ড ছিল। এছাড়া অনুমোদিত এসআইজে আবেদনকারীদের মধ্যে আরো ২০০ জন যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এল সালভাদরের নৃশংস সড়ক গ্যাং এমএস-১৩০-এর পরিচিত বা সন্দেহভাজন সদস্য ছিল, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
অপরাধীদের এসআইজে কর্মসূচির অপব্যবহারের হাই-প্রোফাইল মামলাগুলোর মধ্যে নিউইয়র্কের একজন এমএস-১৩ নেতার ঘটনা অন্যতম। এই লোক তার জড়িত থাকা আটটি হত্যাকা-ের সাথে সম্পর্কিত চাঁদাবাজি ও অবৈধ সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ স্বীকার করেছে।
আরেক অবৈধ অভিবাসীর ম্যাসাচুসেটসে দীর্ঘদিনের গ্যাং কার্যকলাপে জড়িত থাকার ইতিহাস ছিল এবং সে একটি চলন্ত গাড়ি থেকে চালানো গুলিবর্ষণে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যাতে দুজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়। এই মারাত্মক গুলিবর্ষণের ঘটনার পরই ২০২৩ সালে তার এসআইজে মর্যাদার আবেদন অনুমোদন করা হয়।
ভার্জিনিয়াতে এসআইজে কর্মসূচির অনুমোদন পাওয়া চারজন এমএস-১৩ গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে একাধিক হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করা হয়। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে, যাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্যাংটিকে অপমান করার কারণে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেসিকা ভন হলেন সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের পুলিশ স্টাডিজ পরিচালক। তিনি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এসআইজে আবেদনকারীরা আসলেই মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা খুব কমই রয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এসআইজে হলো একমাত্র ফেডারেল অভিবাসন কর্মসূচিগুলোর একটি, যা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য রাজ্য বিচারকদের, এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের বিচারকদের—ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচিটি তার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী খুব কমই কাজ করে।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকের ধারণা যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত হওয়া ব্যক্তিরা এমন শিশু যাদের কোনো দায়িত্বশীল অভিভাবক নেই, অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। সাধারণ দৃশ্যপট হলো, আবেদনকারীর প্রতিনিধি কোনো রাজ্য বিচারকের সামনে হাজির হয়ে এই নির্ভরতার আদেশের অনুরোধ জানান।’
ওই প্রতিনিধিরা সাধারণত আইনজীবী হয়ে থাকেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন এই এসআইজে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের যা করতে হয় তা হলো, আবেদনকারীর পক্ষে একটি হলফনামা জমা দিয়ে শপথ করা যে, তারা চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি এবং একজন অবহেলিত বা নির্যাতনকারী অভিভাবকের হেফাজত ছাড়া তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
কর্মসূচিটির অপব্যবহারের বিষয়ে এক বিবৃতিতে পার্সিভাল বলেন, ‘যদিও এসআইজে কর্মসূচিটি কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে এটি জালিয়াতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায়ই, শিশুর পরিস্থিতি নিয়ে চাইল্ড প্রোটেক্টিভ সার্ভিস বা অনুরূপ কোনো তদন্ত করা হয় না। এর বদলে যেসব অভিবাসী চিরতরে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে চায়, তারা তাদের দাবিগুলো অর্থপূর্ণভাবে প্রমাণ না করেই এই আদেশগুলো পেয়ে যেতে পারে। কারণ বিচারকরা এই দাবিগুলো যাচাই বা তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অসচেতন।’
 

শেয়ার করুন: