ছবি: সংগৃহীত
সম্পদের প্রাচুর্য নাকি বেশি ফাঁকা জায়গা? অনেক আধুনিক দম্পতির কাছেই এখন ভালোবাসার স্থায়ীত্বের চেয়ে রিয়েল এস্টেটের স্থায়িত্ব যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য : প্রতি চারজন গৃহমালিকের মধ্যে একজন মনে করেন, আগামী ১০ বছরে তার জীবনের সঙ্গী থাকার চেয়ে নিজের ঘরটি টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে, প্রতি পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, সঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজের বাড়িটি হাতছাড়া করা তাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হবে।
সরাসরি যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আগামী ১০ বছরে আপনার জীবনে কোনটির থাকার সম্ভাবনা বেশি?’, তখন ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা ‘সঙ্গী’র চেয়ে ‘আমার বাড়ি’-কে বেছে নেন।
পরিস্থিতি যদি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে প্রতি ছয়জন গৃহমালিকের মধ্যে একজন বাড়িটি ধরে রাখার জন্য নিজ সঙ্গীকে জীবন থেকে ছিটকে ফেলে দিতেও দ্বিধা করবেন না। আর এই নির্মম মানসিকতা মিলেনিওয়ালদের (১৮-৪০ বছর বয়সী) ক্ষেত্রে ২৫% এবং অবিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে ২৮%-এ গিয়ে ঠেকে।
তাছাড়া, ২৯% মানুষ মনে করেন, তাদের ঘরটি সঙ্গীর চেয়েও বেশি নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। আবার একই সংখ্যক (২৯%) মানুষ স্বীকার করেছেন, বাড়ি কেনার মতো অন্য কোনো বিষয় তাদের সম্পর্কে এত টানাপোড়েন সৃষ্টি করেনি।
আরো অদ্ভুত বিষয় হলো : ২১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সঙ্গীর মায়া ত্যাগ করার চেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া তাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন। আর প্রতি ছয়জনের একজন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, উভয়সংকটে পড়লে তারা সম্পর্কের চেয়ে বাড়িকেই বেছে নেবেন। এই ১৬ শতাংশের হারটি মিলেনিওয়ালদের মাঝে ২৫% এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে ২৮% পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।
‘ক্লেভার রিয়েল এস্টেট’ নামের একটি সংস্থা ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সঙ্গী বা স্ত্রীর সাথে বাড়ি কিনেছেন এমন ১,০০০ জন আমেরিকানের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে।
গবেষণাপত্রের লেখিকা ক্রিস্টেন হারহোল্ড ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেন, ‘যেসব গৃহমালিক তাদের সঙ্গীর সাথে যৌথভাবে বাড়ি কিনেছেন, তাদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি বিশ্বাস করেন, দশক পার হলেও সম্পর্কের চেয়ে ঘরটির অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা বেশি। এটি প্রমাণ করে বাড়ি কেনা এখন কতটা বিশাল এক প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে।’
‘একটি বাড়ি এখন কেবল থাকার জায়গা নয়; এটি প্রায়ই মানুষের সবচেয়ে বড় আর্থিক সম্পত্তি, যা ৩০ বছরের বন্ধকি ঋণ (মরগেজ) এবং বহু বছরের সঞ্চয়ের সাথে বাঁধা।’
জরিপ অনুযায়ী, সঙ্গীর সাথে বাড়ি কেনা অধিকাংশ মানুষই বিবাহিত, তবে একটি ক্রমবর্ধমান অংশ, ১৩%, বিয়ের আগেই বাড়ি কেনেন, আর ৫% আদৌ কোনো বিয়ে না করেই বাড়ি কেনেন।
দাম আরো বেড়ে হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ভয়ে ৮% ক্রেতা প্রস্তুত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে বাড়ি কিনে ফেলেন। মিলেনিওয়ালদের মধ্যে এই হার ৩৫%-এ গিয়ে দাঁড়ায়।
যৌথভাবে বাড়ি কেনা চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি ক্রেতা শেষ পর্যন্ত একসাথে বাড়ি কেনা নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। মিলেনিওয়ালদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫০%-এ এবং অবিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৪৫%-এ পৌঁছায়।
দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর যেন হানিমুন পর্বের আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি ঘটে!
২৯ শতাংশ দম্পতি মনে করেন, বাড়ি কেনা বা এর মালিক হওয়া তাদের সম্পর্কের ওপর সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ তৈরি করেছে। অবিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬% পর্যন্ত ওঠে। সম্পর্কের টানাপোড়েনের পেছনে দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে এসেছে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার বিষয়গুলো।
বিয়ের আগে বাড়ি কেনা বা এখনো অবিবাহিত থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজন আফসোস করে জানান, বাড়ি কেনার জন্য বিয়ের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হতো।
৫০%-এরও বেশি উত্তরদাতা বলেন, একই ছাদের নিচে ওঠার পর সঙ্গীর এক একটি বিরক্তিকর অভ্যাস ১০ গুণ বেশি হতাশাজনক মনে হতে থাকে। ২৪% মানুষ প্রায়ই একা একা থাকার কল্পনায় বিভোর হন এবং ৫% জানান, বাড়ি সামলানোর মানসিক চাপে অতিষ্ঠ হয়ে তারা গোপনে ডেটিং অ্যাপ ‘টিন্ডার’ ডাউনলোড করেছেন। মিলেনিওয়ালদের মধ্যে ২৯% স্বীকার করেছেন যে বাড়ি কেনার চাপই তাদের আবার ডেটিং অ্যাপের দুনিয়ায় ঠেলে দিয়েছে।
এত তিক্ততা ও বিরোধের পরও, সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলে বাড়ির কী গতি হবে তা নিয়ে বেশিরভাগ দম্পতির কোনো পূর্বপরিকল্পনা নেই।
৩৬% ক্রেতা বিশ্বাস করেন যে সম্পর্কে ফাটল ধরলে বাড়িটি নিজের কাছে রাখার অধিকার কেবল তাদেরই। অথচ, বিশাল সংখ্যক, ৬৬%, দম্পতি বিচ্ছেদ হলে সম্পত্তির ফয়সালা কীভাবে হবে তা নিয়ে কখনো আলোচনাই করেননি। আর মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে লিখিত আইনি চুক্তি করেছেন।

















