শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ধারা ৩৩৮ এর ব্যবহার  

কানাডিয়ান পণ্যে ৫০  শতাংশ শুল্ক আরোপ 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:০০, ২৪ জুলাই ২০২৬

কানাডিয়ান পণ্যে ৫০  শতাংশ শুল্ক আরোপ 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বেশ কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, দুগ্ধজাত পণ্য ও মোটরগাড়ির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এ অভিযোগ তুলে স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, নতুন শুল্ক ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। এর আওতায় ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন কানাডীয় পণ্য পড়বে। খবর আল জাজিরার। 
এবারের শুল্ক আরোপে ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ধারা ৩৩৮ ব্যবহার করেছেন, যা আগে কখনও এ ধরনেরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
তবে জ্বালানি, পটাশ এবং আগে থেকেই খাতভিত্তিক শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যগুলো নতুন এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতাভুক্ত অনেক পণ্যও এবার এই শুল্কের প্রভাবের মধ্যে পড়বে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ইউএসএমসিএর চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আরও জোরদার করতে কানাডা প্রস্তুত।
নতুন শুল্ক ঘোষণার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে উত্তর আমেরিকার সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সীমান্তবর্তী শিল্পগুলো নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, চীনের পাশাপাশি কানাডাই একমাত্র দেশ, যারা গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেন, কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুগ্ধজাত পণ্যকে বেশি সুবিধা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে নেওয়া কোম্পানিগুলোর গাড়ি রপ্তানির ওপর সীমা আরোপ করেছে।
জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, নতুন শুল্কের উদ্দেশ্য হলো কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ ও বৈষম্যমূলক নীতির জবাব দেওয়া।
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প একের পর এক নতুন শুল্ক আরোপ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন। তবে কানাডার বিরুদ্ধে সর্বশেষ এই পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
 

শেয়ার করুন: