ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির বাড়িওয়ালাদের একটি জোট মেয়র জোহরান মামদানির জারি করা বাড়িভাড়া স্থগিতের আদেশের বিরুদ্ধে বুধবার আইনি লড়াই শুরু করেছে। নতুন এক মামলায় তারা এই পদক্ষেপকে ‘জালিয়াতিপূর্ণ’ ও ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছে, এটি বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
স্টেটেন আইল্যান্ড সুপ্রিম কোর্টে সিটির ‘রেন্ট গাইডলাইন্স বোর্ড’ (আরজিবি)-এর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ২৫ জুন বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, যার অধীনে ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ফ্ল্যাটের ভাড়া দুই বছরের জন্য স্থগিত করার কথা ছিল।
বাড়িওয়ালাদের দাবি, নয় সদস্যের এই বোর্ড তাদের নিজেদের ডেটা বা তথ্য বিকৃত করেছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে। মূলত মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিÑভাড়া স্থগিত করা’Ñবাস্তবায়ন করে তাকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই পূর্বনির্ধারিত ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিতে দাবি করা হয়, ‘রেন্ট গাইডলাইন্স বোর্ডের ২৫ জুনের সিদ্ধান্তটি ছিল একটি কলঙ্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত ফল। এখানে আইনি আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে, একটি স্বাধীন সংস্থাকে জিম্মি করা হয়েছে এবং শুরু থেকেই ফলাফলটি সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।’
মামলার আরজিতে বলা হয়, মামদানি তার অনুগত ভাড়াটিয়া কর্মীদের এই স্বাধীন বোর্ডে বসিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তার বিতর্কিত ‘অফিস অব মাস এঙ্গেজমেন্ট’-এর মাধ্যমে করদাতাদের প্রায় ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরপেক্ষ নাগরিক সংলাপ নয়, বরং ভাড়া স্থগিতের পক্ষে প্রচার চালানো।
তবে রেন্ট গাইডলাইন্স বোর্ডের বর্তমান ছয়জন সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া মামদানি দাবি করেছেন, এই বোর্ড পুরোপুরি স্বাধীনভাবেই কাজ করেছে।
যৌথভাবে ১০০টিরও বেশি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ইউনিটের মালিক এই বাড়িওয়ালারা, আগামী অক্টোবরে আদেশটি কার্যকর হওয়ার আগেই তা স্থগিত করার জন্য রাজ্য বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ‘যদি ৫৮ নম্বর আদেশটি বহাল রাখা হয়, তবে তা বাদিপক্ষ এবং সমদশার অন্যান্য বাড়িওয়ালার (যারা তাদের সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন) ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। একই সাথে এটি একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে যে, মেয়রের একক আদেশে রেন্ট গাইডলাইন্স বোর্ডের স্বাধীনতা ধূলিসাৎ করে দেওয়া যায়।”
এই মামলার অন্যতম বাদি ভাইওলেট জারকু জানান, তার ৫০টি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাওয়া ভাড়া দিয়ে বাড়ি পরিচালনা ও মেরামতের খরচ আর চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে তিনটির মতো পুরোপুরি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবন ন্যূনতম সচল রাখতেই তার পরিবারকে আয়ের বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাড়িভাড়া স্থগিত করা হলেও তো আমার মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিল, বিদ্যুৎ খরচ কিংবা সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।’
জারকুর পরিবার বছরের পর বছর কেয়ারটেকার বা সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করে জমানো টাকায় বিগত কয়েক বছরে এই তিনটি ভবন কেনেন এবং আধুনিকায়নে ৩ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেন।
কিন্তু মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান খরচ, বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স ফি আকাশচুম্বী হওয়ায়, ভবনগুলো এখন লোকসানের মুখে পড়েছে। ফলে অ্যাস্টোরিয়ায় অবস্থিত তাদের একটি ভবন বিক্রির জন্য তালিকায় তুলতে হয়েছে।
জারকু আগে ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেছিলেন, ‘আমাদের বছরে ১ লাখ ৭২ হাজার ডলার লোকসান হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জরুরি মেরামত ছাড়া মূলধনি সংস্কার বা অ্যাপার্টমেন্ট ঢেলে সাজানোর ক্ষমতা আমাদের আর নেই। যে ভবনগুলো আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে তিল তিল করে টিকিয়ে রেখেছি, তা বিক্রি করে দেওয়া ছাড়া এখন আমাদের সামনে আর কোনো উপায় নেই।’
জারকু এবং মামলায় জড়িত অন্য দুই বাড়িওয়ালা জানান, ভাড়া না দেওয়াটাও তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল জারকুর ফ্ল্যাটগুলোতেই ৭০ হাজার ডলারের বেশি ভাড়া বকেয়া পড়েছে।
ব্রঙ্কসের এক ভবন মালিকের দাবি, তার বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ ৯০ হাজার ডলার। অন্যদিকে কুইন্সের একটি ভবনের মালিক, যাদের পরিবার ১৯৭৪ সাল থেকে নিজেরা ভবনটি পরিচালনা করে আসছে, তাদের পাওনা ৭০ হাজার ডলার, যার মধ্যে কেবল এক ভাড়াটিয়ার কাছেই বকেয়া পড়ে আছে ২৫ হাজার ডলারের বেশি।
মামলায় বলা হয়, ‘প্রমাণ বা শুনানি শুনানির আগেই যেহেতু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল, তাই বোর্ড এ ধরনের ভবনগুলোর পরিণতি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবেনি।’
বাড়িওয়ালারা রেন্ট গাইডলাইন্স বোর্ডের ভোটাভুটি সংক্রান্ত বিষয়ে মেয়র এবং তার অধীনস্থ বিভিন্ন দফতর, যার মধ্যে ওএমই এবং ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মী সিয়া উইভারের নেতৃত্বাধীন একটি দফতর অন্তর্ভুক্ত, তাদের মধ্যকার যাবতীয় যোগাযোগের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
বাড়িওয়ালাদের পক্ষে আইনজীবী এবং তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা র্যান্ডি ম্যাসট্রো বলেন, ‘এমন সর্বাত্মক ভাড়া স্থগিতের আদেশের পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাতিল করতে হবে।’

















