শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

‘লু’ হাওয়ায় ঘি ঢাললেন আমাদের সিনেবিজ্ঞানী

মেসবাহ শিমুল, ঢাকা অফিস 

প্রকাশিত: ১০:১৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৩

‘লু’ হাওয়ায় ঘি ঢাললেন আমাদের সিনেবিজ্ঞানী

ঢাকার চিঠির লেখক: মেসবাহ শিমুল

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমেরিকার তালগাছটাই চাই। অতীতে দেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের কী ভূমিকা ছিলো সেদিকে যাচ্ছি না। তবে সামনের দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে তাদের যে বক্তব্য সেখান থেকে তারা বিন্দু পরিমান নড়ছে না। সম্প্রতি ঢাকা সফরে দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু যেন সেই বার্তাটাই আরো স্পস্ট করলেন।

দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশংসা সূচক বাক্য বর্ষণ করলেও আগামী নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হয় তার দেশের এমন অভিপ্রায়ের কথা জানাতে ভুলেননি। র‌্যাব সম্পর্কে তেমন আশার সংবাদ শোনাননি। সবমিলে মনে বিচার মানি তালগাছ আমার। মানে ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের যে টানাপড়েন সেটি কমেছে এমন একটি আভাস পাওয়া গেলেও নির্বাচন বিষয়ে তাদের প্রত্যাশার যায়গায় তারা ছাড় দিচ্ছে না সেটি নিশ্চিত। তাইতো অনেকেই ‘লু’ হাওয়া বলছেন। এই হাওয়া মানে ডোনাল্ড লু’র কথার যে বাষ্পীয় তেজ সেটি নিশ্চয়ই সরকার টের পাচ্ছে। 

লু’র সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আমাদের দেশের একজন বিজ্ঞানী, শিশুতোষ গল্পকার ও মুক্তিযুদ্ধের গল্পকার বোমা ফাটিয়েছেন। সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতার পাঠ শেষ করে এখন তিনি রাজধানীতে। সরকারের নানা কর্মকা-ে তার অংশগ্রহণ রয়েছে। মাঝে-মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে তার কথাবার্তা শোনা যায়। মিডিয়ার আগ্রহ রয়েছে তাকে নিয়ে। সম্প্রতি ক্লাস সেভেনের বিজ্ঞান বইয়ে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ার পর এই সিনেবিজ্ঞানী এখন ব্যাপক তোপের মুখে।

তাকে বল হয় বিজ্ঞান মনস্ক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রণেতা। তাই তার ওপর দায়িত্ব ছিলো এই বইটির। জাতি যাতে অতীতের চেয়ে আগামীর দিনগুলোয় মেধাবী শিশুদের পায় সে কারনেই তাকে দায়িত্ব দেয়া। কিন্তু তার নেতৃত্বাধীন দলটি বইয়ের কন্টেন্ট গুগুল ঘেটে চুরি করে হুবহু ছেপে দিয়েছেন। এই বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে রীতিমত তুলকালাম চলছে। ইতোমধ্যে তিনি স্বীকারও করেছেন। কিন্তু যা হবার তা হয়েছে ইতোমধ্যে। কাগজ ও সময় সঙ্কটের মূহূর্তে এই চুরি কিংবা ভুল সংশোধনের সময় কই?

এদিকে বড় বিতর্ক উঠেছে বইয়ে আবারো ফিরিয়ে আনা হয়েছে ডারউইনের বিবর্তনবাদ। যেখানে বানর থেকে মানুষ হওয়ার তত্ত্ব প্রচার করা হয়েছে। এই তত্ত্ব বহু আগেই মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ায় মানুষ অনেকটা ভুলেও গিয়েছিলো। কিন্তু আমাদের দেশের নয়া বুদ্ধিজীবীরা সেই তত্ত্বকে ফিরিয়ে এনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করলো। 

ডোনাল্ড লু’ ঢাকা সেই কবেই ফিরে গেছেন নিজ দেশে। হয়তো ইতোমধ্যে তার সফরের সামারিও জমা দিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনে। তাতে হয়তো দেশের রাজনীতি কিংবা আমাদের দেশের আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তার আগাম পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের আগে হয়তো তিনি আবারো আসবেন। আসতে পারেন আরো অনেকেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে তাদের এই ‘তালগাছ’ নীতি কাজেও লাগতে পারে।

কিন্তু জনগণের কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে এই ‘বানরতত্ত্ব’ কিংবা ‘চুরি বিদ্যা’ এই জাতির কোন কাজে লাগবে সেটি ভেবে পাই না। তবে এটি সহজে বুঝতে পারি জাতির উন্নতিতে জ্ঞান কাজে লাগুক আর না লাগুক এইসব  প্রকল্প বাগিয়ে নিয়ে আমাদের দেশের কথিত বিজ্ঞানীরা বেশ ভালোই কাজে লাগাবেন তাতে সন্দেহ নেই। 
 

শেয়ার করুন: