ছবি সংগৃহীত
বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে নিউ ইয়র্কবাসী দিশেহারা। বুধবার প্রকাশিত ‘মেরিস্ট কলেজ’-এর এক নতুন জরিপের চমকপ্রদ ফলাফলে দেখা গেছে, নিউ ইয়র্কের প্রায় ৪৫ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার মনে করেন তাদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা গত এক বছরের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষত ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৫৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৪ শতাংশ নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি অবনতির কথা বলেছেন। শহর ও শহরতলি নির্বিশেষে পেট্রোল, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও বাড়ি ভাড়ার অতিরিক্ত খরচে সবাই জর্জরিত। পাশাপাশি অ-শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ৫৪ শতাংশ আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন।
অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও’ব্রায়েন ও.বি. মারে বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির সমস্যাটি বহু বছর ধরে জমছিল, যা এখন চরম রূপ নিয়েছে। নিউ ইয়র্কের মানুষ বেশি টাকা দিয়ে কম সুবিধা পাচ্ছেন।’ তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়লেও নিউ ইয়র্কের কর ও সরকারি ব্যয়নীতি বহু দিন ধরেই এই দুর্দশার জন্য দায়ী। গৃহঋণের সুদের হার, স্বাস্থ্যসেবা ও কর বাড়ায় ভোটাররা ক্ষুব্ধ এবং তারা বর্তমান ক্ষমতায় থাকাদের ওপরই এর দায় চাপাচ্ছেন।
তবে গভর্নর পদের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোচুল তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যান থেকে ৫৩ শতাংশ-৪২ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন (সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে এই ব্যবধান ৫৪ শতাংশ-৪০ শতাংশ)। মেরিস্টের জরিপে দেখা গেছে, নির্দলীয় বা স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্লেকম্যান ৪৯ শতাংশ-৩৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যান্য পদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লেটিটিয়া জেমস (৫৪ শতাংশ) তার প্রতিদ্বন্দ্বী সারিতা কোমাটিরেড্ডি (৩৯ শতাংশ)-এর চেয়ে এবং রাজ্য কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাট টম ডিনাপোলি (৫৯ শতাংশ) রিপাবলিকান জোসেফ হার্নান্দেজ (৩২ শতাংশ)-এর চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১,৪৪৮ জন ভোটারের ওপর চালানো এই মেরিস্ট জরিপের ভুলের মাত্রা) ছিল ৩.৯ শতাংশ।

















