শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

৩,২০০ মাইলে ৩৩০টিরও বেশি

নাসাউয়ে ৯.৫ মাইলে  নজরদারি ক্যামেরা

নবযুগ রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ২১:৫২, ২ অক্টোবর ২০২৬

নাসাউয়ে ৯.৫ মাইলে  নজরদারি ক্যামেরা

ছবি সংগৃহীত

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টির সড়কে চালকদের গড়ে প্রতি ৯.৫ মাইল পরপর একটি করে ফ্লক সেফটি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যেতে হয়। স্বাধীন তথ্যভিত্তিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ কারণে এ এলাকার বাসিন্দারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি নজরদারির আওতাভুক্ত নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন।

অ্যাকটিভিস্ট সংগঠন ডিফ্লকের তথ্য অনুযায়ী, নাসাউ কাউন্টির ৩,২০০ মাইলের বেশি সড়কে ৩৩০টিরও বেশি ফ্লক সেফটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার মাইল সড়কে প্রায় ১০৫টি ক্যামেরা রয়েছে। এ ঘনত্বের কারণে দেশজুড়ে নজরদারির মাত্রায় নাসাউ কাউন্টি শীর্ষ ৩ শতাংশের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
ফ্লক সেফটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ক্যামেরা ব্যবস্থা, যা চলন্ত প্রতিটি গাড়ির নম্বরপ্লেট ছাড়াও ডেন্ট, স্টিকারসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। পরে এসব তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান করে কোনো গাড়ির চলাচলের পথ অনুসরণ করতে পারে।
প্রতিবেশী সাফোক কাউন্টিতে প্রায় ৭,১০০ মাইল সড়কে কয়েক শ’ ক্যামেরা রয়েছে, যেখানে গড়ে প্রতি ৩৩ মাইলে একটি ক্যামেরা পড়ে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে থাকা সব ক্যামেরার তথ্য এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি।
গত বছর নাসাউ কাউন্টি প্রায় ১০ লাখ ডলারের চুক্তিতে ফ্লক সেফটির ক্যামেরা কিনেছে। অন্যদিকে সাফোক কাউন্টি সম্প্রতি ফ্লকের ‘রেভেন’ অডিও নজরদারি ব্যবস্থা কেনার ৪০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি স্থগিত করেছে, যদিও আরও ক্যামেরা কেনার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জুন মাসেই লং আইল্যান্ডের পুলিশ সদস্যরা ফ্লকের ডাটাবেজে প্রায় ৩ হাজার অনুসন্ধান চালিয়েছেন। কুইন্স সীমান্ত থেকে মন্টক পর্যন্ত প্রায় ১০০ মাইল এলাকায় ৬০০টির মতো ফ্লক ক্যামেরা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোতে রয়েছে আরও হাজারো ক্যামেরা।
তবে এই নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কও রয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, নাগরিক অধিকারভিত্তিক আন্দোলন এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্যামেরা ভাঙচুর হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ প্রযুক্তি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য হুমকি হতে পারে।
নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্ল্যাকম্যান অবশ্য বলেছেন, ফ্লক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে এবং অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লকের তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ জনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। এ কারণে প্রযুক্তিটি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কংগ্রেসেও বেশ কয়েকটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। যদি সেগুলোর কিছু পাস হয়, তবে নাসাউ ও সাফোক কাউন্টিসহ ফ্লক ব্যবহারকারী স্থানীয় প্রশাসনগুলো ফেডারেল তহবিল হারাতে পারে।
 

শেয়ার করুন: