ছবি সংগৃহীত
গাড়ির সার্ভিস চুক্তি বা আফটারমার্কেট এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মূল ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত মেরামত খরচের সুরক্ষা দেয়। বড় ধরনের মেরামত ব্যয়ের ঝুঁকি কমাতে অনেক গ্রাহক এ ধরনের সেবা গ্রহণ করেন।
তবে অনেকের ধারণার বিপরীতে, সার্ভিস চুক্তি থাকলেই যে মেরামতের পুরো বিল পরিশোধ করা হবে, তা নয়। কোনো দাবি (ক্লেইম) অনুমোদিত হবে কি না, তা নির্ভর করে ত্রুটির কারণ, চুক্তির শর্ত, কভারেজ, ডিডাক্টিবল, শ্রম ব্যয় এবং যন্ত্রাংশ ব্যবহারের নিয়মের ওপর।
ধরা যাক, আপনার গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিল এবং মেরামত খরচ ধরা হলো ৪ হাজার ডলার। চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কোম্পানি দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারে, যদি দেখা যায় ক্ষতির মূল কারণ এমন কোনো যন্ত্রাংশ, যা চুক্তির আওতায় নেই। যেমন, একটি ফাটা হোস পাইপের কারণে কুল্যান্ট বের হয়ে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইঞ্জিন কভারেজ থাকলেও ক্ষতিপূরণ নাও মিলতে পারে।
চুক্তি কেনার আগে গ্রাহকের জানা জরুরি, কে চুক্তি বিক্রি করছে এবং কে দাবি নিষ্পত্তির দায়িত্বে আছে। অনেক সময় বিক্রেতা ও দাবি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান আলাদা হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহককে আগে মেরামতের বিল পরিশোধ করে পরে অর্থ ফেরত নিতে হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানি সরাসরি গ্যারেজে অর্থ দেয়।
দাবি মূল্যায়নের সময় প্রশাসক প্রতিষ্ঠান সাধারণত মেকানিকের প্রতিবেদন, মেরামতের আনুমানিক ব্যয় এবং চুক্তির শর্ত যাচাই করে। বড় ধরনের মেরামতের ক্ষেত্রে স্বাধীন পরিদর্শকও পাঠানো হতে পারে। প্রয়োজনে ইঞ্জিন খুলে ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানের খরচও গ্রাহককেই বহন করতে হতে পারে।
ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, চুক্তি কেনার আগে শ্রম খরচ, ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ধরন, টোয়িং বা ভাড়ার গাড়ির খরচ কভার হবে কি না, এসব বিষয় ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। একই সাথে গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের নথি সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা প্রমাণিত হলে দাবি বাতিল হতে পারে।
কোনো দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিটি কথোপকথন, বিল, মেরামত প্রতিবেদন ও অনুমোদনের তথ্য লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। মেরামতের কাজ শুরুর আগে প্রশাসক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়া এবং দাবি নম্বর সংগ্রহ করাও জরুরি।
মূল কথা হলো, এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি বা সার্ভিস চুক্তির মূল্য বিচার করতে হবে লিখিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে, সম্ভাব্য বড় মেরামত বিলের ভিত্তিতে নয়। দাবি পরিশোধ হবে কি না, তা নির্ভর করে ক্ষতি চুক্তির আওতায় আছে কি না, কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য কি না, রক্ষণাবেক্ষণের শর্ত মানা হয়েছে কি না এবং দাবি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়েছে কি না তার ওপর।

















