ছবি সংগৃহীত
বিশ্বমানের গণপরিবহন ব্যবস্থা, হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর উপযোগী এলাকা এবং অফুরন্ত সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধা হয়তো নিউ ইয়র্ক সিটিতে রয়েছে। তবে এসব সুবিধার জন্য ভাড়াটেদের দিতে হচ্ছে চড়া মাশুল।
ভাড়াটেদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১৫০টি শহরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘রেন্টক্যাফে’র ২০২৬ সালের তালিকায় ম্যানহাটন, কুইন্স এবং ব্রুকলিন, তিনটি বরাবরের মতোই তলানির দিকে জায়গা পেয়েছে। আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার মানÑএ তিনটি বিষয়ের অধীন ২০টি সূচক বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়।
সামগ্রিক তালিকায় ম্যানহাটন ১৩৭ নম্বরে অবস্থান করছে, যেখানে কুইন্স রয়েছে ১৪৭ এবং ব্রুকলিন রয়েছে ১৪৮ নম্বরে। অর্থাৎ সিটির বড় দুটি বরো (চিহ্নিত এলাকা) তালিকার একদম শেষ কয়েক ধাপের মধ্যেই আটকে গেছে।
ম্যানহাটনে খরচের বোঝা পাহাড়সম
ম্যানহাটনের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি নিয়ে নিশ্চয়ই এমন কেউ অবাক হবেন না, যিনি সেখানে ভাড়ার চেক লিখেছেন।
আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচের দিক থেকে এই বরোটি একবারে তলানিতেÑঅর্থাৎ ১৫০ নম্বরে ঠাঁই পেয়েছে; যেখানে সাধারণ জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে অবিশ্বাস্য রকমের বেশি (১৩৮.৯% বেশি)। সেখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় আয়তন মাত্র ৭৫৯ বর্গফুট।
তবে এত টাকা খসিয়েও ভাড়াটেরা কিন্তু বিনিময়ে কিছু সুবিধা পাচ্ছেন।
জীবনযাত্রার মানের বিচারে ম্যানহাটন দেশজুড়ে ৩য় স্থানে রয়েছে। সেখানকার অর্ধেকেরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট এমন সব সেরা এলাকায় অবস্থিত, যেখান থেকে গণপরিবহন, পার্ক বা সবুজ প্রান্তর এবং দৈনন্দিন জীবনের সুযোগ-সুবিধা একেবারেই হাতের কাছে।
এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থা ও হেঁটে যাতায়াতের সুবাদে এটি পুরো দেশে ১ম স্থান দখল করেছে, যেখানে প্রায় ৬১.১% বাসিন্দা এভাবে যাতায়াত করেন। অন্যদিকে স্কুলের গুণগত মানের দিক থেকে এটি ২৫তম স্থান পেয়েছে।
এর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ শক্তিশালী ছিল। স্থানীয় অর্থনীতির দিক থেকে ম্যানহাটন ৩৩তম স্থানে রয়েছে; যেখানে প্রতি ১০,০০০ বাসিন্দার বিপরীতে ৩৩৬টি নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়ে এবং প্রায় অর্ধেক বাসিন্দাকেই উচ্চশিক্ষিত হিসেবে গণ্য করা হয়।
তালিকায় আরও নিচে নেমেছে ব্রুকলিন ও কুইন্স
সামগ্রিক বিচারে ব্রুকলিনের অবস্থা আরও শোচনীয়, যার অবস্থান ১৪৮তম। আর আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচের বিচারে এটি রয়েছে ১৪৯ নম্বরে।
সেখানে জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ৬৩.৯% বেশি, আর অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় আয়তন মাত্র ৭৩৫ বর্গফুট। তা সত্ত্বেও, সেখানকার ১৫.৬% অ্যাপার্টমেন্টই নতুন তৈরি এবং বিগত পাঁচ বছরে ভাড়াটেদের আয় ৩৯.১% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিনটি বরোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
জীবনযাত্রার মানের বিচারেও ব্রুকলিন বেশ ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে, জাতীয়ভাবে এটি রয়েছে ৫৮ নম্বরে। সেখানকার প্রায় ৫৫% বাসিন্দা গণপরিবহন ব্যবহার করেন, যা পুরো দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, সামগ্রিক তালিকায় ঠিক এক ধাপ এগিয়ে ১৪৭ নম্বরে শেষ করেছে কুইন্স। তিন বরোর মধ্যে এটি কিছুটা কম ব্যয়বহুল হলেও এর জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ৫৩.৮% ওপরে। আর এর অ্যাপার্টমেন্টগুলো আয়তনে সবচেয়ে ছোট, গড়ে প্রায় ৭৩০ বর্গফুট।
গণপরিবহন ব্যবস্থা ও হেঁটে যাতায়াতের সুবিধার দিক থেকে কুইন্স জাতীয়ভাবে ৩য় স্থান অর্জন করেছে এবং তিনটি বরোর মধ্যে সেরা ফলাফল দেখিয়ে স্কুলের মানের বিচারে ২২তম স্থানে রয়েছে।
তবে যাতায়াত ব্যবস্থা সেখানে এখনও বেশ কষ্টসাধ্য : কুইন্সের ৬২% বাসিন্দাকে একা একা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়, যা পুরো দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
নিউ ইয়র্কের অন্যান্য অঞ্চলে অবশ্য ভাড়াটেদের কপাল খানিকটা ভালো। রাজ্যের মধ্যে সেরা ফলাফল দেখিয়ে অ্যালবানি জাতীয়ভাবে ৬৪তম স্থান পেয়েছে, যার পর ১৩১ নম্বরে বাফেলো এবং ১৩৪ নম্বরে রচেস্টার রয়েছে।
শহরের ভাড়াটেদের জন্য এই র্যাংঙ্কিং এক পরিচিত সমঝোতা বা ‘ট্রেড-অফ’-কেই সামনে এনেছে: দেশের অন্যতম সেরা যোগাযোগ ব্যবস্থা আর মহানগরীর জাকজমকপূর্ণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে গুনতে হবে সবচেয়ে চড়া দামও।

















