বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কে নিহত রাজুর লাশ বাংলাদেশে যাচ্ছে শুক্রবার

প্রকাশিত: ২২:১৪, ২৬ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কে নিহত রাজুর লাশ বাংলাদেশে যাচ্ছে শুক্রবার

মোহাম্মদ ইফসুফ রাজু

 

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত মোহাম্মদ ইফসুফ রাজুর লাশ শুক্রবার বাংলাদেশে যাচ্ছে।নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর প্রবাসী মো. ইউসুফ রাজু (৪৪) নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মস্থলে গুলিতে নিহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর বাংলাদেশি সহকর্মী রাসেল। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সনাক্ত করেছে খুনীকে। সন্দেহভাজন খুনীকে ধরিয়ে দিতে এনওয়াইপিডি ছবি প্রকাশ করেছে তাদের ওয়েবসাইটে।  আকাশচুম্বি প্রত্যাশা নিয়ে রাজু মাত্র বছর আগে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। বুলেটের আঘাতে সে প্রত্যাশার মাটি চাপা পড়লো। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি রেস্টুরেন্টে গভীর রাতে গুলির ঘটনায় রাজু নিহত হন। শনিবার মধ্যরাতের পর ২৩ আগষ্ট ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে /১১ কলে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায় পুলিশ।রাজুর নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। তার মরদেহ শুক্রবার ২৮ আগষ্ট দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিউইয়র্কস্থ বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সভাপতি জাহিদ মিন্টু বলেন, মানবিক বিবেচনায় নোয়খালি সোসাইটি মরহুম রাজুর জন্য কাজ করছে। তাকে ফিউনারেলে রাখা, জানাজা বাংলাদেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ আমাদের সংগঠন সহ কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বহন করছে। ছাড়াও অর্থ উদ্বৃত্ত তার পরিবারকে পাঠানো হবে। নিউইয়র্কের স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান ড্রাম রাজুর মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। ড্রামের কর্মকর্তা কাজি ফৌজিয়া  বলেন, বাংলাদেশে ফোনে রাজুর স্ত্রী হোসনে আরা আকতার পলির সাথে কথা হয়েছে। রাজুর মেয়ে। বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। ছোট মেয়ে রাইসার বয়স আড়াই বছর। রাজু তার ছোট মেয়েকে দেখতে পারেননি। সে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরপরই ছোট মেয়ের জন্ম। রাজুর মা মারা গেছেন বছর আগে। ফৌজিয়া জানান, রাজুর জন্যগো ফান্ড একাউন্ট খোলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

নিহত রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর সীমান্ত পথে প্রবেশ করেন। বৈধ কাগজ হবার জন্য এসাইলাম আবেদন করেছিলেন। ২০২৮ সালে তার সাক্ষাৎকারের তারিখ পড়েছিল। তাঁর স্বপ্ন ছিল বৈধ হলে একদিন স্ত্রী সন্তানদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসবেন। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। স্বজনরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় ঋণ করেছিলেন রাজু। পরিবারের জন্য স্থায়ী ঘরও করে যেতে পারেননি তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে তাঁর পরিবার। প্রবাসে পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর যে স্বপ্ন নিয়ে হাজার মাইল দূরে গিয়েছিলেন ইউসুফ রাজু, বন্দুকের গুলিতে থেমে গেছে সেই স্বপ্ন।

শেয়ার করুন: