ছবি সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকার (ডিএসএ) নিউ ইয়র্ক সিটি শাখার সহ-সভাপতি গুস্তাভো গোর্দিও প্রকাশ্যে ধনী সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানার তীব্র বিরোধিতা করলেও, বাস্তবে তিনি থাকেন কোটিপতি মা-বাবার কেনা ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়িতে।
৩৮ বছর বয়সী এই সমাজতান্ত্রিক নেতা ব্রুকলিনের বেড-স্টাই এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২,০০০ বর্গফুটের দোতলা একটি বাড়িতে বসবাস করেন। অথচ তিনি নিয়মিত ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদবিরোধী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই দ্বিমুখী আচরণ দেখে ৩৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ফেইথ স্মিথ বলেন, ‘তিনি মূলত ধনী ঘরের সন্তান। তাকে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয় না।’
সম্পত্তির দলিল অনুযায়ী, ২০০১৯ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এই নেতার মা-বাবা ‘চুকুইতো এলএলসি’ নামের একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কেনেন। পরে ২০২৩ সালের নথিপত্র এবং সাম্প্রতিক সংস্কার কাজ শেষে দেখা যায়, পুরো বাড়িটির রূপ পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। এতে রুফটপ ডেকসহ আধুনিক সব সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
গোর্দিওর বাবা ফোনে মিডিয়ার কাছে নিশ্চিত করেন, তাদের সেল কোম্পানির মাধ্যমে কেনা ওই বাড়িতে গুস্তাভো এবং তার ভাই বসবাস করছেন।
অথচ এই গোর্দিও এবং তার ডিএসএ সঙ্গীরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানার তীব্র বিরোধিতা করে জমিহীনদের মাঝে তা পুনর্বণ্টনের দাবি জানান। সম্প্রতি ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাড়িমালিকদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কারো বিনিয়োগের ওপর দুই অঙ্কের মুনাফা তোলার কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকা উচিত নয়।
গোর্দিও নিজেকে ‘শ্রমজীবী ইউনিয়ন ইলেকট্রিশিয়ান’ হিসেবে জাহির করলেও কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি যে, তিনি তাদের সাত বছরের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি এখন আর ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন না। বর্তমানে তিনি জীবিকার জন্য কী করেন তা স্পষ্ট নয়।
পেরু থেকে আসা তার অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রকৌশল ও পরামর্শক ব্যবসা গড়ে তুলে বিপুল সম্পদের মালিক হয়। গোর্দিওর বাবা বর্তমানে ফ্লোরিডায় মাল্টি-মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি রাজকীয় বাড়ির মালিক। এর আগেও গোর্দিও যখন ম্যানহাটনে থাকতেন, তখনো তার বাবা একই কোম্পানির মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৬০০ ডলারের ভাড়া পরিশোধ করতেন।

















