ছবি সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির ব্যস্ততম ম্যানহাটান এলাকায় বায়ুদূষণ কমাতে ‘কনজেশন প্রাইসিং’ (যানজট শুল্ক) চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে শহরের নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই শুল্ক বায়ুদূষণ কমাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, চালকদের ওপর ৯ ডলারের এই শুল্ক পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, বরং গণপরিবহনে অর্থ জোগানের জন্য একটি ‘টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি’ মাত্র।
ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ-এর প্রকাশিত এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৬০ নম্বর স্ট্রিটের দক্ষিণে ম্যানহাটনে প্রবেশের ওপর শুল্ক বসানোর পরও কনজেশন জোনে বায়ুদূষণ কমেনি, যদিও আগের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা ১১% কমেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ‘কনজেশন প্রাইসিং কি এই অঞ্চলের বায়ুমানের কোনো পরিবর্তন করেছে? উত্তর হলো, না।’
নিউ ইয়র্কার্স এগেইনস্ট কনজেশন প্রাইসিং ট্যাক্স’-এর সদস্য ও সাবেক বিচারক ক্যাথরিন ফ্রিড বলেন, ‘গাড়ির সংখ্যা কমলে দূষণ কমবে, সমর্থকদের এমন দাবির কোনো সামাজিক বা পরিবেশগত প্রতিফলন এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।’ এর আগে রাজ্য গভর্নর ক্যাথি হোকুল দাবি করেছিলেন, এই প্রকল্পের কারণে এক বছরে দূষণ ২০ শতাংশের বেশি কমেছে, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অ্যাপ-ভিত্তিক চালকরা এই পদক্ষেপের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সি ব্রিজ ফিশ মার্কেটের মালিক ভিনি ডিমিনো আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই রিপোর্টই প্রমাণ করে এটি দূষণ কমানোর জন্য ছিল না, ছিল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদদের কেবল এমটিএ-এর পকেট ভরানোর ফন্দি। প্রতিদিন যাতায়াত ও ডেলিভারির জন্য আমাকে ৫০-৬০ ডলার গুনতে হচ্ছে।’ বর্তমানে ৯ ডলার থাকা এই শুল্ক ২০২৮ সালে ১২ ডলার এবং ২০৩১ সালে ১৫ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ম্যানহাটনের বাইরের এলাকাগুলোতেও দূষণের মাত্রায় উল্লেখ করার মতো কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তবে প্রস্তাবটির সমর্থকরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। ‘রইনভেন্ট আলবানি’র নির্বাহী পরিচালক জন ক্যাহনি জানান, অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন শুল্ক এড়াতে গাড়ি অন্য পথে চলায় বাইরের এলাকাগুলোতে দূষণ বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি আরো জানান, বাতাসে মোট ক্ষতিকর কণার মাত্র ১৪% আসে গাড়ি থেকে; তাই বায়ুদূষণে এর প্রভাব কম হওয়াটাই স্বাভাবিক।
স্টেটেন আইল্যান্ডের বরো প্রেসিডেন্ট ভিটো ফোসেলা বিষয়টিকে স্রেফ ‘টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি’ বলে আখ্যা দিলেও, এমটিএর সিইও জানো লিবার দাবি করেন, ‘এই গবেষণা এটাই নিশ্চিত করে যে, আশঙ্কাজনিত কোনো দূষণ বাড়েনি এবং এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে বায়ুমান আরো উন্নত করার কাজ চলছে।’

















