ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়া শিশুদের টিকাদানের হার গত বছর আরো কমেছে। একই সাথে কোনো না কোনো অজুহাতে টিকা না নেওয়ার আইনি ছাড় নেওয়ার ঘটনা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য তথ্যে জানানো হয়েছে।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে টিকা না নেওয়ার এই ছাড়ের হার বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে (যা আগের বছর ছিল ৩.৬%)। এর ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পর পর চার বছর ধরে এই ছাড় পাওয়ার হার নতুন রেকর্ড গড়ল, যার বড় একটি কারণ চিকিৎসাগত সমস্যা নয়, বরং অভিভাবকদের অনিচ্ছা। দেশটির ৪১টি অঙ্গরাজ্যে এই প্রবণতা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিগত বিভ্রান্তিই এর প্রধান কারণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ ক্যানাডি জুনিয়র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য এবং শৈশবের টিকাদান নির্দেশনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের চিকিৎসকদের মতে, গত দেড় বছরে টিকা-সংক্রান্ত নীতিমালায় বিশৃঙ্খলা ও অস্পষ্টতার কারণেই এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হাম, মাম্পস ও রুবেলার মতো অত্যাবশ্যকীয় টিকার হার কমে ৯২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মহামারি-পূর্ব সময়ে যা ছিল ৯৫ শতাংশ, যা যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ছিল। এছাড়া পোলিও, ধনুষ্টঙ্কার, খোঁকানি (কাশি) এবং জলবসন্তের টিকাদানের হারও কমেছে। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো যখন ১৯৯১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হামের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ প্রত্যক্ষ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার স্কুলে প্রবেশ করা প্রায় আড়াই লাখ শিশু হামের ঝুঁকিতে রয়েছে।
আমেরিকার সব অঙ্গরাজ্যেই স্কুলে ভর্তির আগে নির্দিষ্ট কিছু টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চিকিৎসাগত কারণ ছাড়া ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ছাড় পাওয়ার যে সুযোগ রয়েছে, সেটির সুযোগই এখন বেশি নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ১৭.৫% শিশু কোনো না কোনো টিকার ক্ষেত্রে ছাড় নিয়েছে, যেখানে কানেকটিকাটে এই হার ছিল ০.৫ শতাংশের নিচে।
আগে স্বাস্থ্য দফতরগুলো নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে টিকাদানের প্রচারণায় সরব হলেও, বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সুর কিছুটা নরম। সিডিসি সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় কেবল অভিভাবকদের চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

















