শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্ক গভর্নরের সই করা আইন বাস্তবায়ন শুরু (অভিভাবকরা ব্যাপক  আশাবাদী)

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া  ব্যবহার কড়াকড়ি হচ্ছে

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৪২, ৩১ জুলাই ২০২৬

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া  ব্যবহার কড়াকড়ি হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

শিশুরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কী দেখতে পাবে তা সীমিত করতে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ‘সেফ ফর কিডস অ্যাক্ট’ আইনে সই করেছিলেন দুই বছরেরও বেশি সময় আগে। অবশেষে আইনটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় গভর্নর হোকুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো, এবার তোমরা সতর্ক হয়ে যাও।’
অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের সাথে আয়োজিত যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। জেমসের দফতরই মূলত আইনের বিস্তারিত বিধিমালা তৈরি করেছে। এই নিয়মগুলো ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স (টুইটার) এবং ইউটিউবসহ বড় সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
অভিভাবকের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা এখন থেকে আর ‘অ্যাডিক্টিভ অ্যালগরিদমিক ফিড’ (আসক্তিকর কন্টেন্ট সাজেস্ট করার প্রযুক্তি) দেখতে পাবে না এবং রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত তাদের ফোনে কোনো নোটিফিকেশনও আসবে না।
এই আইনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ব্রুকলিনের অঙ্গরাজ্য সেনেটর অ্যান্ড্রু গু নার্ডেস বলেন, ‘এর মানে শিশুদের জন্য কী দাঁড়াল? এর অর্থ হলো, তারা এখন তাদের বন্ধু, পরিবার কিংবা টেলর সুইফটের ফ্যান পেজ, যা ইচ্ছা ফলো করতে পারবে। তারা তাদের পছন্দের কন্টেন্ট দেখবে, অ্যালগরিদম তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করিয়ে রাখার জন্য যে কন্টেন্ট জোর করে সামনে ঠেলে দেয়, তা দেখতে হবে না।’
জেমস বলেন, ‘এখানে মূল পরিবর্তনটি আসছে ডিফোল্ট সেটিংসে। তরুণ ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে বিশেষভাবে তৈরি অ্যালগরিদমিক ফিডে কোম্পানিগুলো তাদের আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেলতে পারবে না।’
ব্যবহারকারীদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি কি না তা যাচাই করতে প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারে, তবে তার পাশাপাশি অন্তত অন্য একটি বিকল্প পদ্ধতিও চালু রাখতে হবে।
বিকল্প পদ্ধতির মধ্যে থাকতে পারে, ছবি বা ভিডিও আপলোড করা, কিংবা ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে অন্যান্য তথ্যের সাথে মিলিয়ে বয়স নিশ্চিত করা। বয়স প্রমাণের জন্য সংগৃহীত যেকোনো ব্যক্তিগত তথ্য সাথে সাথেই মুছে ফেলতে হবে এবং বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতিগুলো কতটা নির্ভুল, তাও প্রমাণ করতে হবে।
গভর্নর হোকুল বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো আমাকে বলে, ‘কারো বয়স ১৮-এর নিচে কি না তা জানার কোনো উপায় আমাদের নেই।’ আমি তাদের বলেছি, ‘আপনারা বুদ্ধিমান মানুষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উপায় বের করুন। প্রয়োজনে কীভাবে করতে হয় তা অন্যদের জিজ্ঞেস করুন। তাছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের তো জুয়া বা স্পোর্টস বেটিংয়ে সুযোগ দেওয়ার কথা নয়, তার মানে আপনাদের কাছে নিশ্চয়ই বয়স নির্ধারণের কোনো উপায় আছে। তাই পারব না বলে বাহানা দেবেন না, সমাধান বের করুন।’”
প্রযুক্তি খাতের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এ বিষয়ে মৃদু প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টেক ইন্ডাস্ট্রির জোট ‘টেক:এনওয়াইসি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে : ‘ইন্টারনেটে তরুণ নিউ ইয়র্কবাসীদের সুরক্ষার লক্ষ্যকে আমরা সমর্থন করি। তবে বয়স যাচাইয়ের শর্তসহ এই আইনের মূল ধারাগুলো বাস্তবে আদৌ কার্যকর কি না এবং নিউ ইয়র্কের পরিবার, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য কোনো অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
আইনের চূড়ান্ত বিধিমালাটি চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আগামী জানুয়ারিতে আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো বিধিমালা মেনে চলার জন্য ছয় মাস সময় পাবে।
 

শেয়ার করুন: