ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘ওমনি’ নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমছে। বেশ কয়েকজন যাত্রীর দাবি, মেট্রোকার্ডে তারা যে ধরনের সুবিধা পেতেন, ওমনি কার্ডে সে সুবিধা মিলছে না।
যেমন, ওমনি সিস্টেমে সপ্তাহে ১২ বার যাতায়াত বা সর্বোচ্চ ৩৬ ডলার খরচের পর বাকি যাতায়াত বিনামূল্যে হওয়ার কথা (যাকে ‘ফেয়ার ক্যাপ’ বলা হয়)। কিন্তু ‘গিগ ওয়ার্কার’ হিসেবে কর্মরত রিয়ানন জাস্টিস জানান, তাকে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
‘আমাদের আসলে একটি সত্যিকারের আনলিমিটেড ওমনি কার্ড দরকার, সপ্তাহে ১২ বার ট্যাপ করার শর্ত দিয়ে লাভ নেই,’ বলেন জাস্টিস। ‘কাজের প্রয়োজনে দিনে হয়তো ৫, ৬ বা ৭টি ভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। ফলে সোমবার থেকে শুরু করে বুধবারে যেতে না যেতেই ক্যাপিংয়ের সুবিধা শেষ হয়ে যায় এবং ওমনি কার্ড খালি হয়ে পড়ে।’
জাস্টিস আরো জানান, সাবওয়ে (পাতাল রেল) থেকে বাসে উঠলে নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে যে ট্রান্সফার সুবিধা পাওয়ার কথা, তাও তিনি পান না। যখন বাস পরিদর্শকরা উঠে পেমেন্টের প্রমাণ চান, তখন তার সিস্টেমে টাকা পরিশোধের বিষয়টি দেখায় না। ফলে তারা আবার ভাড়া দাবি করে।
তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দ্বিতীয়বার ভাড়া দেবেন না।
মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) অবশ্য যাত্রীদের এ বিষয়ে সরাসরি তাদের কাছে আসার পরামর্শ দিয়েছে।
অনেকের মতে, ওমনি ব্যবস্থাটি এতটাই জটিল যে সাধারণ যাত্রীদের সবসময় খেয়াল রাখতে হয় তাদের সপ্তাহের হিসাবটি ঠিক কোন দিন থেকে শুরু হচ্ছে, যা সবার ক্ষেত্রে আলাদা।
ওমনির ফেয়ার ক্যাপ সুবিধা পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। যেমন, পরপর দুটি ট্যাপের মধ্যে অন্তত ১৫ মিনিটের ব্যবধান থাকতে হবে এবং প্রতিবার একই কার্ড ব্যবহার করতে হবে।
তবে অনেকেই একটি বিষয় জানেন না, ওমনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের কার্ডটি রেজিস্টার বা নিবন্ধিত করলে প্রতিটি যাত্রা ও খরচের হিসাব দেখা যায়। কোনো ভুল চার্জ কাটা হলে সেখান থেকে সরাসরি অনলাইনে অভিযোগও করা যায়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, কার্ড ট্যাপ করার সময় স্ক্রিনে কার্ডের ব্যালেন্স বা অবশিষ্ট টাকা দেখতে না পাওয়া। এমটিএ জানিয়েছে, তারা কিউবিককে দ্রুত এই ফিচারটি চালু করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কিউবিকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি।

















