ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’ (ইউএসসিআইএস) আশ্রয়ের আবেদন জমাজনিত জট কমাতে নিয়মে কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর, দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন বিচারক, উভয়েই আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তির কাজটি করে থাকেন। ইউএসসিআইএস মূলত সেসব অভিবাসীর ‘অ্যাফারমেটিভ’ (স্বপ্রণোদিত) আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি করে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগের কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে না। অন্যদিকে, বিচারকরা সেসব অভিবাসীদের ‘ডিফেন্সিভ’ (আত্মরক্ষামূলক) আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি করেন যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আবেদনকারীর অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইউএসসিআইএস সাধারণত আবেদনটি নিজেই নিষ্পত্তি করে অথবা একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের কাছে পাঠিয়ে দেয়, যিনি পরে নতুন করে আবেদনটি পর্যালোচনা করেন। এর মাধ্যমে একজন অভিবাসী আশ্রয় পাওয়ার দ্বিতীয় আরেকটি সুযোগ পেয়ে থাকেন।
নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস এখন থেকে আবেদনকারী অভিবাসীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই সরাসরি ইমিগ্রেশন বিচারকদের কাছে আশ্রয়ের আবেদন পাঠাতে পারবে। এতে আশ্রয় কর্মকর্তা এবং ইমিগ্রেশন বিচারকদের মোট আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় কমে আসবে। অন্যান্য কারণের পাশাপাশি আশ্রয়ের আবেদনের দীর্ঘ জট কমাতেই ইউএসসিআইএস এই পরিবর্তন আনছে।
ইউএসসিআইএস-এর পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ের এই ব্যবস্থাকে আসল সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে কেবল সময়ক্ষেপণ এবং কাজের অনুমতি পাওয়ার উপায় হিসেবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকার আশ্রয় ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল মূলত তাদের সুরক্ষার জন্য যারা সত্যিই নির্যাতনের আশঙ্কায় ভোগেন। আর এই নতুন নিয়ম নিশ্চিত করবে যেন আমাদের সম্পদগুলো কোনো আইনি ফাঁকফোকর খোঁজা মানুষের পেছনে নষ্ট না হয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।’
ডিএইচএস-এর জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বলেন, ‘কার্যকর ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো অবৈধ অভিবাসী এবং উন্মুক্ত সীমান্তের পক্ষে কাজ করা আইনজীবীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সময়ক্ষেপণ। আমার দফতর প্রতিদিন ডিএইচএস-এর ইমিগ্রেশন বিভাগগুলোর সাথে কাজ করে যাচ্ছে যাতে কাজের দক্ষতা বাড়ে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়। এই নিয়মটি ঠিক সেই লক্ষ্যই পূরণ করবে।’
নতুন এ নিয়মটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউএসসিআইএস সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করবে এবং পরে সেই মতামতগুলোর ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করবে।

















