ছবি: সংগৃহীত
নিজের নির্বাচনী ওয়েবসাইটে নিজেকে ‘শতভাগ সাধারণ মানুষের শক্তিতে চালিত’ বলে দাবি করলেও, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) (উঝঅ) সদস্য এবং জোহরান মামদানির সমর্থনপুষ্ট কংগ্রেসনাল প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের সংগ্রহ করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ডলার নির্বাচনী তহবিলের ৬০ ভাগেরও বেশি এসেছে অন্য অঙ্গরাজ্যের দাতাদের কাছ থেকে।
ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসের কংগ্রেস সদস্য অ্যাড্রিয়ানো এস্পায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই বিতর্কিত প্রার্থী শেভালিয়ার কেবল ক্যালিফোর্নিয়া থেকেই ৮০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া তিনি সাইকত চক্রবর্তী, যিনি নিজে একজন ব্যর্থ কংগ্রেসনাল প্রার্থী এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেসের সাবেক চিফ অব স্টাফ, তার কাছ থেকে ৭,৫০০ ডলার গ্রহণ করেছেন।
গত ১ এপ্রিল থেকে ৩ জুনের মধ্যে সংগ্রহ করা এই তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ১,১৮,০০০ ডলার এসেছে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের প্রিয় মুখ মামদানি গত ২৮ মে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ার পর।
করপোরেট রিয়েল এস্টেট খাতের কোনো অর্থ গ্রহণ না করার অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও কংগ্রেস পদপ্রত্যাশী এই নেতা রিয়েল এস্টেট শিল্পের সাথে সম্পর্কিত নগদ ৮,০০০ ডলারেরও বেশি গ্রহণ করেছেন; যার মধ্যে লং আইল্যান্ড-ভিত্তিক নির্মাতা সৈয়দ এম. রিজভী এবং ব্রোকার ফারাজ খানের ৩,৫০০ ডলারের অনুদানও রয়েছে। ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং ডিএসএ সদস্য শেভালিয়ারের সাম্প্রতিক তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে বড় অঙ্কের (হাই-ডলার) অনুদান থেকে, যার প্রতিটির পরিমাণ ছিল ২,৫০০ ডলারের ওপরে।
গত ১ এপ্রিল থেকে ৩ জুনের মধ্যে তোলা শেভালিয়ারের এই সাড়ে তিন লাখ ডলারের তহবিলটি মূলত এ পর্যন্ত তার সংগৃহীত মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশ। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত তিনি মোট প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে রিপ্রেজেন্টেটিভ এস্পায়াত ৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন, যার ফলে এই নির্বাচনী চক্রে এ পর্যন্ত তাঁর মোট সংগৃহীত তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) ডলারের কিছু বেশি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শেভালিয়ার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু লাগামহীন পোস্টের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘একটি চরম কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং জো বাইডেনকে ‘ধর্ষক’ বলে অভিহিত করেছেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট (বাইডেন) অবশ্য তার বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে এক সাবেক সিনেট কর্মীর আনা এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।
মামদানি জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে শেভালিয়ারকে সমর্থন দেওয়ার আগে তিনি তার এই বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক পোস্টগুলোর পাহাড় লক্ষ্য করেননি।
এ সংবাদটি অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর, প্রার্থীর এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক পোস্টের কাছে শেভালিয়ারের একটি বিবৃতি পাঠান, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তিনি ওই বিতর্কিত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
শেভালিয়ার বিবৃতিতে বলেন, ‘এই অর্থ আমাদের নির্বাচনী তহবিলে এসেছে তা জানার সাথে সাথেই আমি আমার অর্থবিষয়ক পরিচালককে (ফাইন্যান্স ডিরেক্টর) এই অনুদানগুলো ফেরত দিতে বলেছি। এই অনুদানগুলো হয় ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, অথবা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি যেন তিনি রিয়েল এস্টেট লবিদের কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি টাকা ফেরত দেন, যারা আমাদের বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছে; অথবা আইপ্যাক থেকে নেওয়া ৬০ লাখ ডলারের বেশি এবং আইসিই ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া ১ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি টাকা ফেরত দেন। কিন্তু যেহেতু তিনি বারবার আমাদের সমাজকে বিক্রি করে দিয়েছেন, তাই আমি তার এই অর্থ ফেরতের আশায় বসে থাকছি না।

















