শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

যেভাবে ঘর ঠান্ডা রাখা যাবে জেনে নিতে হবে

সামারে থার্মোটেস্টে  খরচ কমাবে এসির

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:১০, ১৯ জুন ২০২৬

সামারে থার্মোটেস্টে  খরচ কমাবে এসির

ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মকাল বা সামার এসে গেছে, আর এই সময়ে থার্মোস্টেটের (এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক) সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করাটা আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার লক্ষ্য যদি হয় আরাম বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা, তবে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ আপনি যখন বাড়িতে থাকবেন, তখন এসির তাপমাত্রা ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।

আপনি যখন কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকবেন, তখন তাপমাত্রা আরো ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি বাড়িয়ে ৮৫ থেকে ৮৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (প্রায় ২৯.৫ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) কাছাকাছি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর রাতে যখন ঘুমাতে যাবেন, তখন ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা রাখা সবচেয়ে আদর্শ।
এইচভিএসি বা এসি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য একমত, তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে রাখলে বিদ্যুৎ বিলে বেশ ভালো টাকা বাঁচানো সম্ভব। তবে তাদের মতে, থার্মোস্টেটের সঠিক তাপমাত্রা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রা এবং পরিবারের প্রয়োজনের ওপর।
ম্যাসাচুসেটসের ড্যানভার্সে অবস্থিত ‘টাউনসেন্ড’-এর এইচভিএসি বিশেষজ্ঞ জিমি ক্যাম্পবেল বলেন, ‘এই পরামর্শগুলো জ্বালানি বিজ্ঞান এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এটি মেনে চলা একটি ভালো বুদ্ধি। তবে এটিও মাথায় রাখা জরুরি যে প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজন আলাদা।’
ক্যাম্পবেল বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, বয়স্ক ব্যক্তিরা সাধারণত শীতকালে ঘর বেশি গরম এবং গ্রীষ্মকালে বেশি ঠান্ডা রাখতে পছন্দ করেন। জ্বালানি বিভাগের এই সুপারিশগুলো পুরোপুরিভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ বা প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে নয়।’
থার্মোস্টেটের তাপমাত্রা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই গরমে আপনি থার্মোস্টেটের জন্য যে তাপমাত্রা বেছে নেবেন, তা আপনার বিদ্যুৎ বিলের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যাম্পবেল ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা এবং বাইরের তাপমাত্রার মধ্যকার পার্থক্য যত কম হবে, আপনার এসি সিস্টেমকে তত কম চলতে হবে এবং এটি তত কম বিদ্যুৎ খরচ করবে।’
আপনি যখন বাড়ির বাইরে থাকার সময় তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি বাড়িয়ে দেন এবং বাড়ি ফেরার ঠিক আগে তাপমাত্রা আবার কমিয়ে আনার জন্য প্রোগ্রাম (টাইমার) সেট করে রাখেন, তখন এসি সিস্টেমকে আদর্শ তাপমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য খুব বেশি সময় বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় না।
ঘুমানোর সময়ের ক্ষেত্রে অবশ্য একেক জনের পছন্দ একেক রকম। আপনি যদি একটু বেশি তাপমাত্রাতেও মানিয়ে নিতে পারেন, তবে ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইট একটি ভালো সেটিং।
ক্যাম্পবেল বলেন, ‘শোবার সময় তাপমাত্রা ৭৮ ডিগ্রির পরিবর্তে ৮২ ডিগ্রিতে সেট করলে আপনি আরামেই ঘুমাতে পারবেন, আবার বিদ্যুৎ বিলও বাঁচবে। সকালে যখন থার্মোস্টেট আবার ৭৮ ডিগ্রিতে ফিরে আসবে, তখন এসিকে মাত্র ৪ ডিগ্রির পার্থক্য পূরণ করতে হবে।’ 
তবে আপনি যদি ঘুমানোর জন্য অনেক বেশি ঠান্ডা ঘর পছন্দ করেন, তবে নির্দ্বিধায় তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নিন। দিনশেষে, আপনার ঘুমের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য সামান্য একটু বেশি বিদ্যুৎ বিল দেওয়াটা অন্যায্য নয়।
তাপমাত্রা বাড়িয়েও যেভাবে ঘর ঠান্ডা রাখবেন
থার্মোস্টেটের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে রাখার পরও এই গরমে ঘর ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে বেশ কিছু কৌশল আপনাকে সাহায্য করতে পারে :
সিলিং এবং ফ্লোর ফ্যান চালু রাখুন : ফ্যান ঘরের বাতাস সচল রাখে। ক্যাম্পবেল জানান, ‘চলতি বাতাস শরীরকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়। তাই ফ্যান ঘরের তাপমাত্রা সরাসরি না কমালেও, আপনি এসির তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রিতে দিয়ে সাথে ফ্যান চালিয়ে রাখলে ঘরটিকে ৭৮ ডিগ্রির মতোই ঠান্ডা মনে হবে।’
ব্ল্যাকআউট (অন্ধকার করার) পর্দা ব্যবহার করুন : যেসব জানালায় সরাসরি রোদ আসে, সেগুলোতে এই পর্দাগুলো টানিয়ে দিন। ক্যাম্পবেল বলেন, ‘দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে বাইরের তাপ আটকে দিলে পুরো বাড়িটি ঠান্ডা থাকবে এবং এসিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চলতে হবে না।’
এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন করুন : প্রতি ৩০ থেকে ৯০ দিন পর পর এসির পুরোনো ফিল্টার বদলে নতুন ফিল্টার লাগান (এতে এসি সচল থাকে ও বিদ্যুৎ কম টানে)।
 

শেয়ার করুন: