ছবি: সংগৃহীত
ইউএসসিআইএস সম্প্রতি আটক ব্যক্তিদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক্স-সংক্রান্ত তাদের পলিসি ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে।
ইউএসসিআইএস-এর মতে, এই আপডেটে স্পষ্ট করা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সাধারণত আটক ব্যক্তিদের থেকে বায়োমেট্রিক্স সংগ্রহ করবে না, যদি না তারা বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকেন এবং ‘এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ’-এর কাছে তাদের কোনো আবেদন বা পিটিশন ঝুলে থাকে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আটক থাকা বা কারাবাসের কারণে তারা বায়োমেট্রিক্স অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্র্নিধারণের অনুরোধ গ্রহণ করবে না।
এই নীতিটি এখন কলম্বিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি ফেডারেল মামলার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মামলায় আটক অ-নাগরিকদের পক্ষে নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইউএসসিআইএস-এর কাছে তাদের ইমিগ্রেশন আবেদন জমা থাকলেও কেবল হেফাজতে থাকার কারণে তারা বায়োমেট্রিক্স সম্পন্ন করতে পারছেন না।
ইমিগ্রেশন মামলায় বায়োমেট্রিক্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইউএসসিআইএস সাধারণত পরিচয় যাচাইকরণ, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করে। অনেক ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে মামলা এগিয়ে নেওয়ার জন্য বায়োমেট্রিক্স একটি বাধ্যতামূলক ধাপ।
মামলাটিতে সমস্যাটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে : কোনো আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ইউএসসিআইএস-এর বায়োমেট্রিক্স প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নতুন নীতি অনুযায়ী, আটক আবেদনকারীদের এই শর্ত পূরণের কোনো বাস্তবসম্মত উপায় নেই। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, এর ফলে আবেদনের গুণাগুণ বিচার না করেই তা সরাসরি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ কিছু ইমিগ্রেশন সুবিধা ইমিগ্রেশন বিচারকের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। কিছু নির্দিষ্ট আবেদন ইউএসসিআইএস-কেই পরিচালনা করতে হয়, এমনকি আবেদনকারী বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকলেও। অভিযোগপত্রে এমন কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যেমন—স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল স্ট্যাটাস, টি ভিসা, ইউ ভিসা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের নির্দিষ্ট আবেদন এবং কিছু পরিবার-ভিত্তিক বা মানবিক সুরক্ষা।
মামলায় যা দাবি করা হয়েছে
মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই নীতি আটক অভিবাসীদের জন্য একটি কঠিন ও অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে: তাদের বায়োমেট্রিক্স জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সরকার হয় সেই তথ্য সংগ্রহ করবে না অথবা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জায়গায় তাদের নিয়ে যাবে না। ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাদীরা এমন একটি নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছেন, যা আটক আবেদনকারীদের স্বয়ংক্রিয়াভাবে আবেদন বাতিলের মুখে ঠেলে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট এবং পঞ্চম সংশোধনীর ‘ডিউ প্রসেস’ (ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া) গ্যারান্টির লঙ্ঘন। বাদীরা আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যাতে এই নীতি কার্যকর করা বন্ধ করা হয়, এটি বাতিল করা হয় এবং মামলা চলাকালীন আবেদন প্রক্রিয়ায় পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
সতর্কভাবে উল্লেখ্য, এগুলো বর্তমানে একটি চলমান মামলার অভিযোগ মাত্র। আদালতই এই আইনি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে যাদের প্রিয়জন আটক রয়েছেন, তাদের কাছে এই উদ্বেগটি অত্যন্ত জরুরি এবং বাস্তবসম্মত।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন?
এই বিষয়টি সেইসব আটক ব্যক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে যাদের ইউএসসিআইএস-এর কাছে আবেদন ঝুলে আছে বা ভবিষ্যতে করবেন এবং যাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য বায়োমেট্রিক্স প্রয়োজন। মামলায় বিভিন্ন ধরনের ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা আটক বাদীদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এসআইজেএস, টি ভিসা, ইউ ভিসা, অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্ট্যাটাস এবং অ্যাসাইলাম-সংক্রান্ত সুবিধাদি অন্তর্ভুক্ত।
যেসব পরিবারের প্রিয়জন আটক রয়েছেন, তারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন যদি তাদের প্রিয়জন :
* বায়োমেট্রিক্স অ্যাপয়েন্টমেন্টের নোটিশ পেয়ে থাকেন।
* কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করে থাকেন।
* এমন কোনো আবেদন করে থাকেন যেখানে আঙুলের ছাপ প্রয়োজন।
* অথবা বায়োমেট্রিক্সে উপস্থিত হতে না পারার কারণে ‘আবেদন পরিত্যাগের’ জন্য প্রত্যাখ্যানপত্র পেয়ে থাকেন।

















