শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

সুজি কামারা গৃহ-স্বাস্থ্যকর্মী

ফেয়ার ফেয়ারসের আয় সীমা বাড়ানোর দাবি 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১২, ৯ মে ২০২৬

ফেয়ার ফেয়ারসের আয় সীমা বাড়ানোর দাবি 

ছবি: সংগৃহীত

সুজি কামারা গৃহ-স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন। কিন্তু কাগজ-পত্র অনুযায়ী তার আয় এতটাই বেশি যে তিনি শহরের অর্ধেক ভাড়ার যাতায়াত কর্মসূচি ‘ফেয়ার ফেয়ারস’-এর সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।

‘সত্যি বলতে, এটি আমাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছে। আমি সিটি হলের নির্ধারিত যোগ্যতার সীমার খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমার মক্কেলদের কাছে যাওয়ার জন্য যাতায়াত করা প্রয়োজন,’ তিনি (কামারা) বলেন। ‘তাই প্রতি সপ্তাহে আমাকে টাকা জমাতে হতো যাতে যাতায়াত খরচ মেটাতে পারি।’
এই কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে সিটি হলে অনুষ্ঠিত শুনানির আগে কামারা গণপরিবহন সমর্থকদের সাথে যোগ দেন।
‘সিটিজেনস বাজেট কমিশন’ (সিবিসি)-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে আয়ের সীমা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ের সীমা বাড়িয়ে ফেডারেল দারিদ্র্য সীমার ২৫০% করা হলে আরও ৭ লাখ মানুষ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এর ফলে মোট ২০ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে, যার বার্ষিক ব্যয় হবে ১৪৬ মিলিয়ন ডলার।
সিবিসির প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু রেইন বলেন, ‘আমরা এই কর্মসূচিটি এমনভাবে বাড়াতে চাই যাতে নিউ ইয়র্কের প্রতি চারজন কর্মজীবীর মধ্যে একজন এর আওতায় আসে। এমনকি যারা ন্যূনতম মজুরির চেয়ে ২০% বেশি আয় করেন, তারাও যেন এই সুবিধা পান। এর ফলে একজন পূর্ণকালীন যাত্রীর পকেটে বছরে ৭৫০ ডলার ফেরত আসবে।’
বর্তমানে আয়ের সীমা হলো ফেডারেল দারিদ্র্য সীমার ১৫০%। এর অর্থ হলো, এই সুবিধার যোগ্য হতে হলে এক ব্যক্তির বার্ষিক আয় হতে হবে ২৪ হাজার ডলারের নিচে, আর চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা হতে হবে ৪৯ হাজার ডলার বা তার কম।
সিটি কাউন্সিল যোগ্যতার এই সীমা বাড়ানোর দাবি সমর্থন করে এবং বর্তমানে যারা ‘ফেয়ার ফেয়ারস’-এর অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য যাতায়াত পুরোপুরি বিনামূল্যে করার পক্ষে মত দেয়। বুধবার তারা একটি বিল পর্যালোচনা করেন যা এই কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে।
সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, ‘আপনি যখন আবেদন করতে যান, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। এই ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। তাই আমরা আজ এখানে ফেয়ার ফেয়ারস-এর সম্প্রসারণের জোরালো দাবি জানাতে এসেছি।’
বর্তমানে ১.২ মিলিয়ন যোগ্য মানুষের মধ্যে মাত্র ৪ লাখের কিছু কম মানুষ নিবন্ধিত। নতুন বিলটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, যারা অন্যান্য সামাজিক সুবিধা পান, তাদের যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে নগরীর হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এইচআরএ) ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এইচআরএ-এর চিফ প্রোগ্রাম অফিসার রেবেকা চিউ বলেন, ‘সুবিধা পাওয়ার আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য এবং মক্কেলের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক গোপনীয়তা নীতি ও আইন রয়েছে।’
এদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি এনওয়াই১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সম্প্রসারণ ও নিবন্ধন বাড়ানোর বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে বর্তমান সীমার মধ্যেই আমাদের ব্যবহারের হার বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি যোগ্যতার সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আছে। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই নগরীকে কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতের জন্য সাশ্রয়ী করতে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
 

শেয়ার করুন: