ছবি: সংগৃহীত
গত মাসে রাজ্য শিক্ষা কমিশনার বেটি রোসা যখন আমাদের স্কুলগুলোতে ‘টাইটেল নাইন’ কার্যকর করার বিষয়ে মাসাপেকুয়া স্কুল-বোর্ডের প্রস্তাবটি বাতিল করে দেন, তখন সেটি কেবল আলবানির (রাজ্য প্রশাসন) আমলাতান্ত্রিক বাড়াবাড়ির একটি উদাহরণ ছিল না।
এটি ছিল সরাসরি মেয়েদের ওপর একটি আঘাত, এবং নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পরিবারগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা।
গত শরতে, মাসাপেকুয়া শিক্ষা বোর্ড একটি প্রস্তাব পাস করেছিল যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল, আমাদের নীতি অনুযায়ী জৈবিক পুরুষরা স্থানীয় স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত স্থানগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। এটি ছিল ‘টাইটেল নাইন’ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সাথে সংগতিপূর্ণ।
আমাদের লং আইল্যান্ড স্কুল ডিস্ট্রিক্টে এটি কোনো বিতর্কিত বিষয় ছিল না; জনমত জরিপগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখাচ্ছে যে, দলমত নির্বিশেষে বেশির ভাগ আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে মেয়েদের খেলাধুলা, লকার রুম বা বাথরুমে ছেলেদের কোনো স্থান নেই।
কিন্তু নিউ ইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে মামলা দায়ের করে। গত এপ্রিলে দেওয়া কমিশনারের রায়ের লক্ষ্য হলো ডিস্ট্রিক্টকে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করতে বাধ্য করা এবং স্থানীয় জনমানুষের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা।
নারীরা কয়েক দশক ধরে খেলাধুলা এবং নিজেদের ব্যক্তিগত পরিসরে সমান সুযোগ, গোপনীয়তা এবং ন্যায্যতার জন্য লড়াই করেছেন।
এখন আলবানির একদলীয় শাসনের মাধ্যমে সেই অর্জনগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং তার সহযোগীরা এমন এক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন, যা পারিবারিক ভূমিকাকে দুর্বল করে এবং কা-জ্ঞানের চেয়ে আদর্শিক চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
তারা জেদ ধরেছেন, জৈবিক লিঙ্গ যাই হোক না কেন, যেকোনো শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমতো লকার রুম বা বাথরুম ব্যবহার করতে পারবে।
আর যদি এতে মেয়েরা অস্বস্তি বোধ করে? তারা যদি নিজেদের অনিরাপদ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে করে কিংবা তাদের সুযোগ যদি কেড়ে নেওয়া হয়?
তবে তাদের বলা হচ্ছে মানিয়ে নিতে, মুখ বুজে থাকতে এবং তাদের এই ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ মর্যাদা মেনে নিতে।
এই সব কিছুই করা হচ্ছে অভিভাবকের কর্তৃত্ব সরিয়ে সেখানে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বসানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।
সর্বোপরি, ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রাজ্য শিক্ষা দফতরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকায় স্কুলগুলোকে বলা হয়েছে যে, ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ বা স্বীকৃতির অভাব’ থাকলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা ‘বাবা-মা বা অভিভাবককে না জানিয়েই স্কুলে তাদের লিঙ্গ রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।’
এটি স্কুলগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে অভিভাবকদের কাছে তথ্য গোপন রাখতে, যেন একটি শিশুর নিজস্ব পরিবারই তার জন্য হুমকি।
আর রাষ্ট্রের এই বাড়াবাড়ি কেবল লকার রুম বা অভিভাবকের অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
কমিশনার রোসা নিউ ইয়র্কের স্কুলগুলোকে তাদের একাডেমিক মান কমিয়ে দিতে বাধ্য করছেন; তিনি মূলত নি¤œমানের প্রত্যাশাকে ‘প্রগতি’ হিসেবে সাজিয়ে ‘সাফল্যের’ নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, তারা এখন আর এসব লুকানোর চেষ্টাও করছে না।

















