শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কের বয়স্করা , নজরদারি খুবই সামান্য

ডে-কেয়ার সেন্টারে জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:২৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ডে-কেয়ার সেন্টারে জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার 

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি এক মঙ্গলবার দুপুরে চায়নাটাউনের ‘গোল্ডেন টাউন অ্যাডাল্ট সোশ্যাল ডে-কেয়ার’-এ গিয়ে দেখা গেল, শীতের জ্যাকেট পরা একদল বয়স্ক চীনা অভিবাসী প্লেট থেকে লো-মেইন ও ভাত খাচ্ছেন। মধ্যাহ্নভোজটি আসে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ থেকে, যেখানে সাধারণ কোনো পদের দাম ৭ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে।

কিন্তু এটি কোনো লঙ্গরখানা বা সাধারণ ভাতের হোটেল নয়। এটি একটি চিকিৎসা সুবিধা কেন্দ্র, এবং গোল্ডেন টাউনের প্রতি প্লেট খাবারের পেছনে করদাতাদের ব্যয় হয় ৮৫ ডলার। মূলত মেডিকেইড-এর অর্থের একটি বিশাল অপচয় ব্যবস্থার সুবাদে চতুর ব্যবসায়ীরা এ পদ্ধতিটিকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোল্ডেন টাউনের ১০০ গ্রাহকের জন্য যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হয়, তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বেশিরভাগই হেঁটে আসতেই পছন্দ করেন।
অবিশ্বাস্য হলেও পুরো বিষয়টি পুরোপুরি বৈধ। মিডিয়ার একটি তদন্তে উঠে এসেছে, এই সেন্টারগুলোর বেসরকারি মালিকরা এমন একটি ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন যেখানে নজরদারি খুবই সামান্য। আর এর ফলে নিউইয়র্কের করদাতাদের বছরে ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ডলার গুনতে হচ্ছে।
সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো শুধুমাত্র সেইসব প্রবীণের জন্য হওয়ার কথা, যাদের ‘দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা অক্ষমতা’ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজ্য মেডিকেইড কর্মকর্তা মিডিয়াকে বলেন, যদি মেডিকেইড নিয়মগুলো কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে এই সেন্টারগুলোর ‘সুস্থ-সবল বয়স্কদের ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।’
উৎসটি আরো যোগ করেন, মূলত, হুইলচেয়ার বা ওয়াকার ব্যবহার করেন না এমন কাউকে এই জায়গাগুলোতে ঢুকতে দেখার কথা নয়।’
কিন্তু এই মানদ-গুলো প্রয়োগ করা হয় না। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, সেন্টারগুলো পরিচালনার নিয়মগুলো বেশ অস্পষ্ট। তাদের কেবল ‘পুষ্টি’, ‘সুশৃঙ্খল কর্মকা-’ এবং ‘সামাজিকীকরণের’ ব্যবস্থা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নদীর ওপারে কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে সকাল ১০টার দিকে দেখা গেল, ‘এক্সিলেন্স অ্যান্ড লঞ্জিভিটি সেন্টার’-এ প্রবীণরা দ্রুত আসা-যাওয়া করছেন, কেউ কেউ চলে যাওয়ার আগে দুপুরের খাবারের ব্যাগটি সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। ভেতরে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী একদল মানুষকে পিং-পং খেলতে, স্থির সাইকেল চালাতে এবং দুপুরের খাবার উপভোগ করতে দেখা গেল।
২০১৩ সালে এই ধরণের এসএডিসি সেন্টারের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০টি, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০টিতে। এগুলো এখন পাঁচ বরোর বিভিন্ন দোকানঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং বেসমেন্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অবশ্য, তাদের সেবার সাথে সিটি-পরিচালিত সাধারণ সিনিয়িার সেন্টারগুলোর তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এসব স্থানে যাতায়াত, দুপুরের খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে মাত্র সামান্য খরচে।
সংবাদকর্মীরা তিন দিন ধরে ব্রুকলিন, কুইন্স এবং ম্যানহাটনের ১৩টি এসএডিসি সেন্টার পরিদর্শন করে সেখানে কোনো ধরণের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার খুব একটা প্রমাণ পায়নি।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক মুখপাত্র মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন, ২০২৪ সালে মেডিকেইডের মাধ্যমে এসএডিসি-র জন্য আনুমানিক ‘৪০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।’
ম্যানহাটান ইনস্টিটিউটের স্বাস্থ্যসেবা নীতি বিশেষজ্ঞ ক্রিস পোপ মিডিয়াকে বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত নিয়মগুলো অত্যন্ত জটিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি এই বলে চালানো হয় যে এর ফলে বয়স্কদের নার্সিং হোমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু মানুষ যদি সত্যিই নার্সিং হোমে যাওয়ার ঝুঁকিতে না থাকে, তবে প্রশ্ন তোলা জরুরি যে, এটি কতটা যুক্তিসঙ্গত?’
অবশ্য বয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং সাংবাদিকরা এই প্রতিবেদনের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে, তাদের কোনোটির বিরুদ্ধেই অবৈধ কিছু করার অভিযোগ আনা হয়নি।
 

শেয়ার করুন: