শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্ক এই ব্যয়ভার  সইতে পারবে?

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:২২, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

নিউইয়র্ক এই ব্যয়ভার  সইতে পারবে?

ছবি: সংগৃহীত

গত মঙ্গলবার গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দেওয়া ‘স্টেট অফ দ্য স্টেট’ ভাষণটি ছিল বেশ সতর্ক ও নিরাপদ। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের সমালোচকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, কর না বাড়িয়ে তার দেওয়া ‘অ্যাফোর্ডবিলিটি’ (জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো) বা ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ডকেয়ার’-এর মতো বড় বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে নিউইয়র্কের বাজেট নতুন কোনো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

আগামী ২০ জানুয়ারি হোকুল তার প্রস্তাবিত রাজ্য বাজেট পেশ করবেন। তবে তার পরিকল্পনার বিশেষ করে ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ডকেয়ার’ বা সবার জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধার প্রথম ধাপের জন্য যে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সংস্থান কিভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির সমাজতান্ত্রিক মেয়র জোহরান মামদানির নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীলরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, এই উচ্চাভিলাষী চাইল্ডকেয়ার পরিকল্পনায় অর্থায়নের একমাত্র পথ হলো ধনীদের ওপর কর বাড়ানো।
অন্যদিকে, নাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যান, যিনি এই বছরের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী, সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হোকুলের এসব প্রতিশ্রুতি রাজ্যের ইতোমধ্যেই ফুলেফেঁপে ওঠা বাজেট বেলুনটিকে ফাটিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বুধবার অ্যালবানিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যদি না তিনি তার ব্যয়ে বড় কোনো পরিবর্তন আনেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য কর ও নিয়ন্ত্রণ না কমান, তবে নিউইয়র্কের বাজেটের ক্ষেত্রে আমি সামনে খুব অন্ধকার সময় দেখতে পাচ্ছি।’
২০২১ সালে হোকুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যের বাজেট প্রায় ২৩% বেড়েছে এবং গত অর্থবছর শেষে তা রেকর্ড ২৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নজরদারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈরী প্রশাসনের কারণে ফেডারেল ফান্ডিংয়ে বড় ধরনের কাটছাঁটের আশঙ্কার পাশাপাশি ২০২৯ অর্থবছর নাগাদ রাজ্যটি ১২.৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।
হোকুল যখন মেয়র মামদানির সাথে মিত্রতা করলেন, তখন থেকেই আর্থিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ মামদানির ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ডকেয়ার’ এবং ‘ফ্রি বাস’ বা বিনামূল্যে বাস সার্ভিসের প্রতিশ্রুতিগুলোর জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই রাজ্যকে দিতে হবে।
সিটিজেনস বাজেট কমিশনের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু রেইন নিউইয়র্ককে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য হোকুলের প্রশংসা করলেও সতর্ক করেছেন যে, আগামী বাজেটে ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘বিশাল কাঠামোগত বাজেট ঘাটতি এবং ফেডারেল ফান্ডিং কমানোর বিষয়টি সামনের পথকে কঠিন করে তুলেছে।’
এদিকে হোকুলের কর্মসূচী বামপন্থীদের কাছ থেকেও সমালোচনার শিকার হচ্ছে। গভর্নরের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়া লেফটেনেন্ট গভর্নর আন্তোনিও ডেলগাডো, যিনি প্রাইমারি নির্বাচনে হোকুলের বাম দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তিনি দাবি করেছেন যে নিউইয়র্কবাসী ‘সিঙ্গেল পেয়ার হেলথকেয়ার’ এবং ‘আইস’ নিষিদ্ধ করার মতো লিবারেল নীতিগুলো চাইছে। তিনি আরো বলেন, ধনীদের ওপর কর না বাড়িয়ে হোকুলের চাইল্ডকেয়ার পরিকল্পনাটি আসলে ‘অসম্পূর্ণ এবং তহবিলহীন।’
লিবারেল গ্রুপ ‘ইনভেস্ট ইন আওয়ার নিউ ইয়র্ক’ একটি বিবৃতিতে কড়া ভাষায় বলেছে, ‘গভর্নর হোকুলের সামনে দুটি পথ খোলা: হয় ধনীদের ওপর কর বসান, নয়তো আমাদের প্রতিবেশীদের না খেয়ে থাকতে দিন। হয় ধনীদের ওপর কর বসান, নয়তো হাসপাতালগুলো বন্ধ হতে দিন। গভর্নর হোকুল, ধনীদের ওপর কর বসান, নয়তো পথ ছাড়–ন।’
 

শেয়ার করুন: