ছবি: সংগৃহীত
গভর্নর ক্যাথি হোকুল তার ‘স্টেট অফ দ্য স্টেট’ ভাষণে সাবওয়ে নিরাপত্তার জন্য ৭৭ মিলিয়ন (৭ কোটি ৭০ লাখ) ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি গাড়িচালকদের দৌরাত্ম্য কমাতে ট্রানজিট সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে ‘সুপার স্পিডার’ বা চরম গতিতে গাড়ি চালানো চালকদের শায়েস্তা করার পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন।
হোকুল জানান, তিনি এমন একটি পাইলট প্রকল্পে সহায়তা করবেন, যা বারবার স্পিড ক্যামেরায় ধরা পড়া চালকদের গাড়িতে বিশেষ প্রযুক্তি স্থাপনে বাধ্য করতে পারে। এ প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির গতিকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখবে। তার ভাষণে ট্রানজিট-কেন্দ্রিক আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল, যার মধ্যে সেকেন্ড অ্যাভিনিউ সাবওয়ের সম্প্রসারণ এবং জ্যামাইকা অ্যাভিনিউ স্টেশন আধুনিকায়নে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ অন্যতম।
ডেমোক্র্যাটিক এই গভর্নর বলেন, এই ৭৭ মিলিয়ন ডলার সাবওয়েতে পুলিশের বাড়তি টহল বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও তিনি আরো ৮৫টি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম বেরিয়ার (সুরক্ষা বেষ্টনী) বসানোর এবং ‘স্কাউট’ কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এ কর্মসূচিটি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কাজ করে, যার লক্ষ্য সাবওয়েতে সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের সরিয়ে চিকিৎসার আওতায় আনা।
অ্যালবানিতে দেওয়া ভাষণে হোকুল সরাসরি ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, বার্তাটি এখনও একই আছে। আমরা কোনো ‘হতে চাওয়া রাজা’র কাছে মাথা নত করব না এবং কনজেশন প্রাইসিং (যানজট নিরসন ফি) বহাল থাকছে।”
হোকুলের ‘সুপার স্পিডার’ আইন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটি এমন একটি পাইলট প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে যেখানে বারবার নিয়ম ভঙ্গকারী চালকদের গাড়িতে ‘ইন্টেলিজেন্ট স্পিড অ্যাসিস্ট্যান্স’ সিস্টেম বসানো হবে, যা তাদের নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করতে বাধা দেবে।
পৃথকভাবে, তিনি হারলেমের ১২৫তম স্ট্রিট ধরে সেকেন্ড অ্যাভিনিউ সাবওয়েকে পশ্চিমে সম্প্রসারিত করার প্রাথমিক নকশা ও প্রকৌশল কাজের জন্য রাজ্য তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর ফলে লেনক্স অ্যাভিনিউ, সেন্ট নিকোলাস অ্যাভিনিউ এবং ব্রডওয়েতে তিনটি নতুন স্টেশন যুক্ত হবে। এ রুটটি ম্যানহাটনের সাতটি উত্তর-দক্ষিণ সাবওয়ে লাইনের সাথে যাত্রীদের সরাসরি সংযোগ করে দেবে।
রাজ্য তহবিলের একটি সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ইস্ট হারলেমের বর্তমান কাজ শেষ করে আবার নতুন করে শুরু করার চেয়ে বর্তমান টানেল বোরিং কাজ সরাসরি চালিয়ে গেলে সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।
কুইন্সের জন্য হোকুল ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছেন জ্যামাইকা স্টেশন আধুনিকায়নে। এটি অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত হাব, যেখানে লং আইল্যান্ড রেল রোড, ই এবং জে/জেড সাবওয়ে লাইন এবং জেএফকে এয়ারট্রেন মিলিত হয়েছে। গভর্নরের কার্যালয় অনুযায়ী, সাধারণ কর্মদিবসে এই কমপ্লেক্স দিয়ে ১,০০০টির বেশি ট্রেন এবং প্রায় ২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন, কিন্তু গত ২৩ বছরে এই স্টেশনে বড় কোনো সংস্কার হয়নি। এই নতুন নকশার লক্ষ্য হলো রেল, সাবওয়ে এবং এয়ারট্রেন ব্যবস্থাকে একটি নিরবিচ্ছিন্ন আঞ্চলিক প্রবেশদ্বারে পরিণত করা যাতে যাত্রীদের যাতায়াত আরো সহজ হয়।

















