ছবি: সংগৃহীত
ডিভাইস প্রীতি কিংবা যে কোন ডিভাইসের প্রতি মানুষের আসক্তি বর্তমান সময়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই ভয়াবহতা সর্বত্র। ছোট বড় সবার মাঝেই এই প্রবণতা লক্ষণীয়, তবে ছোটদের মাঝে এই অভ্যাসটি প্রকটভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। হ্যাঁ এ কথা সত্যি যে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা কাজে নানা ধরনের ডিভাইস আজ আবশ্যকীয়। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড এসব ছাড়া তো জীবনটাই থেমে যাবে। এসব ছাড়া চলা তো সম্ভবই না!
সেজন্যে এসব যে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন? তা কি করে হয়। কিন্তু সবাই যদি সচেতন হই তবে ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কিন্তু আমরা কমাতেই পারি। একটা বিষয় আমরা সবাই অনুধাবন করছি যে, এই ডিভাইস প্রেম আমাদের সবার অজান্তেই সবার জীবন থেকে মূল্যবান সময় খেয়ে ফেলছে। যে সময় আমরা অন্যত্র কাজে লাগালে কতই না ভালো হতো। আমরা যারা বড় তারা চাইলেই সজাগ হতে পারি, নিজেদের সামলাতে পারি। কিন্তু ছোট যারা তারা হয়তো বুঝতেই পারছে না কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তাদের। তাই ছোটদেরকে যেমন নজরদারি করতে হবে তেমনি বোঝাতে হবে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ক্ষতি সম্পর্কে। বোঝাতে হবে এর সুফল ও কুফল। একটা কথা মনে রাখা জরুরী যে ছোটদের প্রতি চোটপাট করে তাদের রোধ করা যায় না। তাদের আদর মেখে বোঝাতে হবে, কাউন্সিলিং করতে হবে পজিটিভ অভিব্যক্তি নিয়ে। তারা যদি পড়াশুনায় থাকে তবে টিচার বা স্টুডেন্ট কাউন্সিলরের এর সাহায্য ও পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
আমি নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করি বলে ছোটদের মাঝে ডিভাইস আসক্তির বিষয়টা প্রতিনিয়ত দেখি। অগণিত অভিভাবক আমাদের সাথে কথা বলেন কিভাবে সন্তানদের সঠিক পথে রাখবেন, এই মর্মে। আমরা একটি জানা কথা সবাইকে বলি তা হল, একটি শিশুর প্রথম স্কুল তার বাড়ি। যেখানে সে বেশি সময় কাটায়। তাই প্যারেন্টদের প্রাথমিক কাজ হল তাদের তদারকি করা, তারা কে কখন কি করছে তা দেখা এবং তাদের সময় দেয়া ইত্যাদি। কিন্তু অনেক সময় বড়রা বাচ্চাদের সময় দেই না, এমন কি দিতেও চাই না। কিন্তু এমনটি করা যাবে না, শেষটায় পস্তাতে হবে। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক অভিভাবকত্বের উপর। তবে মনে রাখবেন যে বাচ্চারা ইতোমধ্যে আসক্ত হয়ে গেছে তাদের হাত থেকে ডিভাইস আচমকা টেনে নেয়া বা ছুঁড়ে ফেলা একদমই ঠিক হবে না। তাকে সুন্দর করে মধু মেখে বুঝিয়ে, ঠিক বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করতে হবে। ধুম করে রাগ মেখে কিছু করলে সে আরো বিপথে যাবে এবং ড্রাগ এডিক্টদের মতো অনাকাঙ্কিত কিছু করেও বসতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো তাদের আসক্তি কমাতে কিংবা ডিভাইস ব্যবহারের আধিক্য কমাতে না পারলে বড্ড ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই সাবধান হতে হবে এখনই। অন্যদিকে আমরা বড়রাই যদি নিজেদের ডিভাইস প্রেমের লাগাম না টানি তবে তাদেরইবা শাসন বারণ করব কি করে?
লেখক: অভিনেতা।

















