শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

জ্যাকসন হাইটসে মাদক পাচার  চক্র নির্মূল

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

জ্যাকসন হাইটসে মাদক পাচার  চক্র নির্মূল

ছবি: সংগৃহীত

জ্যাকসন হাইটসে একটি মাদক পাচার চক্রের তিন নেতা দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। কুইন্স গ্র্যান্ড জুরি তাদের এবং তাদের দলের আরো ১৩ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (ইন্ডিক্টমেন্ট) দাখিল করেছে।

বিবাদীরা রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে ২৪ ঘণ্টা একটি উন্মুক্ত মাদক বাজার পরিচালনা করত বলে অভিযোগ। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) মেলিন্ডা কাটজ বুধবার ঘোষণা করেছেন যে, এই ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে ৪৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ বিবাদীকে হাজির করা হয়। চক্রের তিন মূল নেতা- করোনার জোনাথন মেন্ডোজা (৩১), মাসপেথের ব্রায়ান জামুডিও (৩০) এবং এলমহার্স্টের মোজেস আন্ডন (২৩)- এর বিরুদ্ধে ‘শীর্ষস্থানীয় মাদক পাচারকারী’ হিসেবে মামলা করা হয়েছে। মেলিন্ডা কাটজ বলেন, ‘রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ এবং এর আশপাশের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো সমাধান করে নিকটবর্তী পরিবার ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অফিসের অগ্রাধিকার। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিবাদীরা জ্যকসন হাইটসের একটি আবাসিক রাস্তায় দিনের সব সময় প্রাণঘাতী মাদক বিক্রি করত। যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তিন নেতার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে।’
জ্যকসন হাইটসে মাদক বিক্রির বিষয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই তদন্ত শুরু হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই তদন্তে ছদ্মবেশে মাদক ক্রয় এবং আদালতের অনুমোদিত ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিবাদীরা ৩৫ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের কোণায় ৯৩ নম্বর রাস্তায় উল্লিখিত মাদকসমূহ এবং পারকোসেট বিক্রি করত। অনেক বেচাকেনা বিবাদী রবার্টো মালডোনাডোর (৩৩) জ্যকসন হাইটসের বাসার সামনে রাস্তার ওপর পাতা চেয়ারে বসে চলত। চক্রের প্রধান মেন্ডোজা অন্য একটি মামলায় রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায়ও তার প্রেমিকা ডায়ানা ইড্রোভোা (২৪) সাথে ফোনে কথা বলে এই অপারেশন পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ।
তদন্ত চলাকালীন ছদ্মবেশী কর্মকর্তারা ২৬ বার মাদক ক্রয় করেন, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ১০,৪০০ ডলার। সোমবার ১৬ জন বিবাদীর মধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের তল্লাশি পরোয়ানার মাধ্যমে ৩০০ গ্রামের বেশি ফেন্টানাইল, দুই কেজির বেশি কোকেন, ১৬ গ্রামের বেশি অক্সিকোডোন, ৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ এবং ১৬০ গ্রাম এক্সটাসি জব্দ করা হয়। এছাড়াও একটি ৯ এমএম হ্যান্ডগান, গোলা-বারুদসহ দুটি হাই-ক্যাপাসিটি ম্যাগাজিন, কয়েকটি ওজন মাপার যন্ত্র ও টাকা গণনার মেশিন এবং ৩০,০০০ ডলারের বেশি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, ‘এই বিবাদীরা জ্যকসন হাইটসের একটি আবাসিক ব্লকে দুঃসাহসিক উপায়ে ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত মাদক বাজার চালাত। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে একটি পাড়ার রাস্তাকে তাদের কর্মকান্ডের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত।’
অভিযুক্ত অন্যান্য সদস্য হলেন- জেসি গার্সিয়া, জেসন অ্যাসপিরোজ, জোসে প্রাডো, জুন সালতো, উইলসন মাতুতে, জেভিয়ার ক্যাব্রেরা, রামন সালসেডো, সালোমন আন্ডন, জোশুয়া প্রেসলি, অ্যালেক্সিস সিয়েরা, আন্তোনিও ভ্যালেরিও এবং মারিও কাস্টিলো। তাদের সবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং মাদক বিক্রির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লেই চেং বিবাদীদের জানুয়ারির বিভিন্ন তারিখে পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একজন বিবাদীর বিচার পরে শুরু হবে এবং দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
এইচএসআই নিউ ইয়র্কের স্পেশাল এজেন্ট রিকি প্যাটেল বলেন, ‘এই গ্রেফতার জ্যকসন হাইটসকে এর আইন মান্যকারী বাসিন্দা এবং পরিবারগুলোর জন্য পুনরায় নিরাপদ করে তোলার একটি বড় মোড়।’
 

শেয়ার করুন: