ছবি: সংগৃহীত
ফেডারেল সাবসিডি বা সরকারি ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ বছর ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ওবামাকেয়ার)-এর অধীনে কয়েক মিলিয়ন আমেরিকান, যাদের মধ্যে হাজার হাজার নিউ ইয়র্কবাসী রয়েছেন, বিশাল অংকের স্বাস্থ্যসেবা খরচের মুখে পড়েছেন।
এ পরিবর্তনটি মূলত সেইসব আমেরিকানদের ওপর প্রভাব ফেলছে যারা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে স্বাস্থ্যবীমা পান না এবং যারা মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার-এর আওতায় পড়ার যোগ্য নন।
কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড আইস অ্যারেনায় তরুণ স্কেটাররা তাদের কোচের অধীনে অনুশীলন করছিল। এই কিশোর-কিশোরীরা ‘স্টেট গেমস অফ আমেরিকা’-র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের এই দক্ষতার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ রেবেকা বয়ডেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে ফিগার স্কেটিং কোচ হিসেবে কাজ করা বয়ডেন বলেন, ‘সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক বিষয় হলো বাচ্চাদের সাথে কাজ করা এবং প্রতিদিন তাদের উন্নতি দেখা।’
তার ছাত্ররা যখন অ্যাথলেটিক সাফল্যের জন্য নিজেদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিচ্ছে, তখন তাদের কোচ বলছেন যে বছরের বাকি সময়ের জন্য তার নিজেরই কোনো স্বাস্থ্যবীমা থাকবে না।
বয়ডেন বলেন, ‘আমার প্রিমিয়ামের খরচ এক লাফে আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। মানে, প্রতি মাসে শুধু প্রিমিয়াম বাবদ আমাকে কত টাকা দিতে হবে তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না; আর এই প্রিমিয়াম দিলেই যে আপনি পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, তা-ও নয়।’
স্বাস্থ্যসেবা গবেষণা বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বয়ডেন সেই ২০ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানদের একজন যাদের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম ২০২৬ সালে গড়ে ১০০%-এরও বেশি বাড়ছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আমাকে বছরে যে পরিমাণ টাকা দিতে হবে তা আমার আয়ের প্রায় ৩০%। এটা অবিশ্বাস্য, কে পারবে এত টাকা দিতে?’
এই খরচ বৃদ্ধির কারণ হলো : কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউস কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কোভিড-কালীন ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ নতুন বছরে শেষ হয়ে গেছে।
কমিউনিটি সার্ভিস সোসাইটি অফ নিউ ইয়র্ক-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪৩,০০০ নিউ ইয়র্কবাসী এই মাস থেকে প্রিমিয়াম বৃদ্ধির মুখে পড়ছেন। নিউ ইয়র্কবাসীদের এই উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্যবীমা সাশ্রয়ী করতে বর্তমান প্রশাসন কী ভাবছে, সে বিষয়ে এনওয়াই১ হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থাটি সাধারণ আমেরিকানদের কাছে যুক্তিসঙ্গত মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিমা কোম্পানিগুলোকে আরো টাকা দিয়ে এই চড়া দাম বজায় রাখার যে চেষ্টা ডেমোক্র্যাটরা করছে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে কোনো প্রকৃত সমাধান নয়।’
দেশাই আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এর পরিবর্তে ওষুধ কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে ওষুধের দাম কমানো এবং সিস্টেমে থাকা অপচয়, জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আমেরিকানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাতে নীতিগত সমাধান দেওয়া চালিয়ে যাবেন।’
সিটির বৃহত্তম পাবলিক হেলথ অলাভজনক সংস্থা ‘পাবলিক হেলথ সলিউশনস’-এর সিইও ক্যাসান্দ্রা হাওয়েল বলেন, ‘ব্রঙ্কসের সন্তান হিসেবে আমি বলতে পারি, এটি মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যখন কাউকে তার স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসার ভাড়ার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, তখন পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, এটি কেড়ে নেওয়া যায় না।’
এই ইস্যুটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ৪৩ দিনের সরকারি শাটডাউন সৃষ্টি করেছিল এবং মধ্যপন্থী রিপাবলিকানরাও ২০২৬ সালের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এর সমাধানের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।

















