শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

অবিশ্বাস্যভাবে ৪৫০% বৃদ্ধি

প্রপার্টি ট্যাক্স বাড়ায় দিশেহারা নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকেরা

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রপার্টি ট্যাক্স বাড়ায় দিশেহারা নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকেরা

ছবি: সংগৃহীত

১০০ ডব্লিউ ৫৭ স্ট্রিটের ‘কার্নেগি হাউস’-এর অ্যাপার্টমেন্ট মালিকেরা এখন এক ভয়াবহ আর্থিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। মূল সমস্যাটি হলো- জমির খাজনা বা প্রপার্টি ট্যাক্স অবিশ্বাস্যভাবে ৪৫০% বৃদ্ধি। গত এক বছর ধরে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালালেও গত সোমবার নিউইয়র্ক কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে বহাল রেখেছেন।

এখন এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হতে চলায় কো-অপ বাসিন্দারা বলছেন, তাদের মাসিক খরচ আকাশচুম্বী হয়ে যাবে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পথ খুঁজছেন; যার ফলে ভবনের অ্যাপার্টমেন্টগুলো এখন অবিশ্বাস্য কম দামে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে খাজনা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা তাদের ছিল, তবে সেটি যে এভাবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসবে তা তারা ভাবতেও পারেননি। লুই নামের এক বাসিন্দা জানান, তাদের বর্তমান মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৩,৭০০ ডলারের কিছু বেশি, কিন্তু সোমবারের রায়ের পর তাদের গুনতে হবে ৯,০০০ ডলারেরও বেশি। লুই বলেন, ‘এটি পাগলামির চেয়েও বেশি কিছু। এটা চালানো অসম্ভব।’
কেবল আর্থিক দিকই নয়, লুই এবং বারবারা দম্পতি এই ভবনে উঠেছিলেন চিকিৎসার প্রয়োজনে। লুই পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে; স্থানীয় হাসপাতালগুলোর কাছে হওয়া ছিল তাদের জন্য বড় সুবিধা। এখন বারবারাও হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। লুই বলেন, ‘আমরা একটি বাড়িতে থাকতাম, কিন্তু এখানে এসেছি কারণ হাসপাতাল ও ডাক্তারদের কাছে যাওয়ার জন্য এটি উপযুক্ত জায়গা। তাছাড়া এখানকার রাস্তাগুলো সমতল হওয়ায় হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা সহজ।’
কার্নেগি হাউসের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হলেও ভবনের নিচের জমিটির মালিকানা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, জমির বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সময় পরপর খাজনা পুনর্নিধারণ করা হয়। এবার এই নতুন হিসাব অনুযায়ী ভবনের বার্ষিক জমির খাজনা ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাসিন্দাদের মাসিক বিলের ওপর।
এরই মধ্যে ভবনের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দামে ধস নেমেছে। স্ট্রিটইজির তথ্যমতে, ৩২৪ ইউনিটের এই ভবনের পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট অত্যন্ত কম দামে বিক্রির তালিকায় উঠেছে। একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট যার দাম ২০১০ সালে ছিল ৩,৭৫,০০০ ডলার, এখন তার দাম চাওয়া হচ্ছে মাত্র ১,০০,০০০ ডলার। ৯০০ বর্গফুটের একটি ওয়ান-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্ট, যা ২০১৭ সালে ৫,৪৫,০০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল, তা এখন মাত্র ১,৮৯,০০০ ডলারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিল অনুযায়ী প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাগে বছরে খরচ পড়ে প্রায় ৭৭,২০০ ডলার। মাস হিসেবে হিসাব করলে দেখা যায়, এই খাজনা বৃদ্ধির ফলে প্রত্যেক বাসিন্দার বিলে মাসিক ৬,৪০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ যোগ হবে।
কার্নেগি হাউস নিয়ে এই লড়াই চলছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। ২০১৪ সালে আবাসন ব্যবসায়ী রুবিন শ্রন, ডেভিড ওয়ার্নার এবং ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা বিলিওনেয়ার মাইকেল ডেল-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ এই ভবনের নিচের জমিটি কিনে নেওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। উল্লেখ্য, মাইকেল ডেল-এর নিজেরই প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি ঠিক এই ব্লকের পাশেই ‘ওয়ান ৫৭’-এ অবস্থিত।
গত গ্রীষ্মে বাড়ির মালিকেরা ভবনের সামনে এবং সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই খাজনা বৃদ্ধির ফলে দশকের পর দশক ধরে থাকা বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হবেন এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের এই এলাকায় থাকার কোনো বিকল্প থাকবে না।
কার্নেগি হাউসের প্রতিনিধিত্বকারী অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিচারক ডেভিড স্যাক্স বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি ভবনটি এই বিশাল খাজনার ভার সইতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে যায়। তেমনটি হলে ভবনটি তার ‘কো-অপ’ মর্যাদা হারাবে এবং এটি সাধারণ ভাড়াটে অ্যাপার্টমেন্টে পরিণত হবে। এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা তাদের মালিকানা হারাবেন, অথচ তাদের মাথার ওপর আগের ঋণের বোঝা থেকেই যাবে। স্যাক্স আরো যোগ করেন যে, আদালতের এই সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ভীষণভাবে ভুল নির্দেশিত।’
 

শেয়ার করুন: