বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারকের রায় 

ড্রাইভিং লাইসেন্স আইনকে আদালতের ‘সবুজসংকেত’

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩৩, ২ জানুয়ারি ২০২৬

ড্রাইভিং লাইসেন্স আইনকে আদালতের ‘সবুজসংকেত’

ছবি: সংগৃহীত

একজন ফেডারেল বিচারক নিউইয়র্কের তথাকথিত ‘গ্রিন লাইট ল’ (সবুজ সংকেত আইন)-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা হলো, যার লক্ষ্য ছিল অবৈধ অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্যকে বাধা দেওয়া।

আলবেনির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক অ্যান এম. নারডাসি রায় দিয়েছেন, রিপাবলিকান প্রশাসন—যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল—তাদের দাবি সপক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন দাবি করেছিল, এই রাজ্য আইনটি ফেডারেল আইনকে লঙ্ঘন করে অথবা অন্যায়ভাবে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্য করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিচার বিভাগ এই আইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল, যেখানে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসকে বিবাদী করা হয়। মামলার ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি অভিযোগ করেন, এই ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তারা ‘আমেরিকান নাগরিকদের চেয়ে অবৈধ এলিয়েনদের (অভিবাসী) বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।’
এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলেছি, আমাদের আইন সকল নিউইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষা করে এবং আমাদের জনপদকে নিরাপদ রাখে। আমি সবসময় নিউইয়র্কবাসী এবং আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াব।’
বিচার বিভাগের মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিচারক নারডাসি, যিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছেন, তার ২৩ পৃষ্ঠার মতামতে লিখেছেন যে, তার কাজ পলিসি হিসেবে এই আইনের ভালো-মন্দ বিচার করা নয়। বরং ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তিগুলো মার্কিন সংবিধানের ‘সুপ্রিমেসি ক্লজ’ (যা রাজ্য আইনের ওপর ফেডারেল আইনের প্রাধান্য দেয়) লঙ্ঘন করছে কি না, তা যাচাই করা। তিনি রায়ে উল্লেখ করেন, প্রশাসন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে।’
কেন এই গ্রিন লাইট ল?
রাস্তায় জনসাধারণের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত এ আইনটি করা হয়েছিল। কারণ লাইসেন্স ছাড়া অনেক ব্যক্তি গাড়ি চালাতেন অথবা কোনো রোড টেস্ট না দিয়েই রাস্তায় নামতেন। এছাড়া এই আইনের ফলে লাইসেন্সধারীরা সহজেই অটো বীমা (কার ইন্স্যুরেন্স) করতে পারেন, যা বীমাহীন চালকদের কারণে ঘটা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।
আইনটির মূল বিষয়গুলো
যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই, তারা বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবে বৈধ পাসপোর্ট বা অন্য দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিতে পারবেন।
আবেদনকারীদের একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স’ পাওয়ার জন্য অবশ্যই পারমিট সংগ্রহ করতে হবে এবং রোড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
তবে এ আইনটি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
 

শেয়ার করুন: