ছবি সংগৃহীত
বিমানবন্দরে নামার পর লাগেজ পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে অনেকেই কেবল সঙ্গে বহনযোগ্য ছোট ব্যাগেজ নিয়ে সফর করেন। তবে সেই সুযোগ হয়তো আর আগের মতো সহজ থাকছে না।
ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নতুন সিকিউরিটি স্ক্যানার চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের আরও নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা এবং নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্রগুলো দ্রুত পার হওয়ার সুবিধা দেওয়া। কিন্তু বিমানে সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি এখন নতুন এক বিপত্তি তৈরি করেছে, কারণ বড় আকারের অনেক ব্যাগই এই নতুন যন্ত্রগুলোর ভেতর দিয়ে গলছে না।
থ্রি-ডি এক্স-রে যুক্ত এই ‘কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি’ স্ক্যানারগুলো অত্যন্ত অত্যাধুনিক হলেও টিএসএ-র মুখপাত্র ড্যানিয়েল ভেলেজ জানিয়েছেন, আগের স্ক্যানারগুলোর তুলনায় নতুন যন্ত্রগুলোর প্রবেশমুখ এক ইঞ্চির চেয়েও কিছুটা ছোট। ফলে বড় আকারের জিনিসপত্র এর ভেতর দিয়ে সহজে পার হতে পারছে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে এবং সর্বাধুনিক পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে এই নির্দিষ্ট নকশাটি ‘একেবারেই অপরিহার্য’ ছিল।
ভেলেজ বলেন, ‘যাতে তল্লাশি প্রক্রিয়াটি সহজেই সম্পন্ন হয়, সেজন্য বড় আকারের ব্যাগ বা বিশেষ সুবিধা প্রয়োজন এমন যাত্রীদের সাহায্য করতে টিএসএ কর্মকর্তারা সবসময় প্রস্তুত আছেন।’
‘সিম্পল ফ্লাইং’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলো সঙ্গে ব্যাগ রাখার জন্য সাধারণত যে নির্দিষ্ট মাপ অনুমোদন করে (২২ ইঞ্চি দ্ধ ১৪ ইঞ্চি দ্ধ ৯ ইঞ্চি), তা এই নতুন স্ক্যানারে অনায়াসেই গলে যাবে। তবে যেসব যাত্রী অনুমোদিত মাপের চেয়ে একটু বড় ব্যাগ কিংবা ‘এক্সপ্যান্ডেবল’ (প্রয়োজনে আকার বাড়ানো যায় এমন) ব্যাগ নিয়ে পার পাওয়ার আশা করছেন, তারা বিপদে পড়তে পারেন। কারণ পুরোদমে প্যাকিং করার পর এগুলোর আকার বদলে যায়।
যাত্রা ঝঞ্ঝাটমুক্ত রাখতে এবং ব্যাগ কার্গোতে চেক-ইন করানোর জন্য বিমানবন্দরে টিকিট কাউন্টারে বারবার ছোটাছুটি এড়াতে ভেলেজ যাত্রীদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমনÑনিজের ব্যাগের মাপটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নির্দেশিকার সাথে আগেই মিলিয়ে নেওয়া, ট্রে বা বিন ব্যবহার করা (নতুন সিটি মেশিনের বেল্টে সরাসরি ব্যাগ রাখা যায় না), এবং ল্যাপটপ ব্যাগের ভেতরেই রেখে দেওয়া, কারণ এই নতুন প্রযুক্তির ফলে ল্যাপটপ আলাদা করে বের করার প্রয়োজন পড়ে না।
নতুন এই প্রযুক্তির কারণে অনেক যাত্রী কিছুটা বিড়ম্বনা বা বিরক্তি বোধ করলেও এর কিছু বিশেষ সুবিধাও রয়েছে। এটি টিএসএ কর্মকর্তাদের ব্যাগের ভেতরের জিনিসপত্র থ্রি-ডি দৃশ্য দেখার সুযোগ দেয়, যার ফলে হাতে ধরে ম্যানুয়ালি ব্যাগ তল্লাশি করার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত তরল পদার্থের পাত্রও আর ব্যাগ থেকে আলাদা করে বের করতে হবে না।
সম্প্রতি টিএসএ-র আরও কিছু নতুন নির্দেশনার পরই এই ঘোষণাটি এলো। যেমন, জনপ্রিয় ‘স্কুইশি’ খেলনা (জেলজাতীয় তরল থাকার কারণে নিরাপত্তা চৌকিতে যা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছিল) প্যাক করার বিষয়ে তাদের নতুন নীতিমালা এবং ফ্লাইটে পানির পূর্ণ বোতল সাথে রাখার সম্ভাব্য অনুমতি। তবে পানির বোতলের এ সুবিধাটি আপাতত কেবল ১৩টি বিমানবন্দরে টিএসএ-র ‘গেটসাইড’ কর্মসূচির অধীনে ‘প্রি-চেক’ সুবিধা পাওয়া যাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করে টিএসএ এই কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আপাতত যাত্রীদের আগের সেই ‘৩-১-১’ নিয়মটিই মেনে চলতে হবে, যেখানে সঙ্গে থাকা যেকোনো তরল পদার্থ সর্বোচ্চ ৩.৪ আউন্স বা তার চেয়ে ছোট পাত্রেই বহন করতে হবে।

















