ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬-২০২৯ (তিন বছর) মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ১৮ অক্টোবর রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সোসাইটির গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০২৬ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তফসিল ও প্রার্থীদের জন্য বিস্তারিত নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে।
নিউইয়র্কের এলমহার্স্টের হুইটনি অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। এসময় উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নির্বাচন কমিশনার বদরুল এইচ. খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ এবং মোহাম্মদ দুলাল মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত তফসিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধি অনুসরণ করে নির্বাচন পরিচালিত হবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ মোট ২১টি পদে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কার্যনির্বাহী সদস্য পদ রয়েছে ছয়টি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বা নমিনেশন প্যাকেজ বিতরণ করা হবে।
প্রার্থীদের পূরণ করা মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে উডসাইডে কুইন্স প্যালেস।
জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনি হবে ৩১ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি বা আপিল থাকলে ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে তা দাখিল করতে হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
ভোটগ্রহণ হবে ১৮ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। নির্বাচনের স্থান বা ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে তা পরে জানানো হবে।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে একজন, সিনিয়র সহ-সভাপতি একজন, সহ-সভাপতি একজন, সাধারণ সম্পাদক একজন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক একজন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে একজন নির্বাচিত হবেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক, স্কুল ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং যুব ও আইটি বিষয়ক সম্পাদক পদে একজন করে নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি ছয়জন কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হবেন। সব মিলিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির ২১টি পদের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্যাকেজের জন্য ৫০০ ডলার দিতে হবে। এই অর্থ অফেরতযোগ্য। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অথবা নির্বাচন কমিশনারদের কাছ থেকে নগদ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন প্যাকেজ সংগ্রহ করা যাবে।
তবে প্রার্থীর নির্দিষ্ট পদের মনোনয়ন ফি কত হবে, সেটি মনোনয়নপত্র বা প্যাকেজে নির্ধারিত থাকবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বাবদ জমা দেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য নয়। অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে পোস্টাল মানি অর্ডারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; জরুরি পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মনোনয়নপত্রে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের মূল স্বাক্ষর থাকতে হবে। ফটোকপি করা মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করা হবে না।
প্রত্যেক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্ধারিত ফি এবং প্রার্থীর ছবিসহ পরিচয়পত্র দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্টেট আইডি, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক অথরাইজেশন কার্ড অথবা পাসপোর্টের কপি উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রতিনিধি বা এজেন্ট মনোনয়নপত্র জমা দিলে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা প্রমাণে এজেন্টকে হলফনামা এবং নোটারাইজড কপি জমা দিতে হবে।
প্রত্যেক প্রার্থীর মনোনয়ন ফরমের নির্ধারিত অ্যাফিডেভিট অংশ পূরণ ও নোটারি করা বাধ্যতামূলক। নোটারি ছাড়া জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্রও বাতিল হবে এবং সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতা সম্পর্কেও বিস্তারিত শর্ত দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে টানা অন্তত দুই ক্যালেন্ডার বছর বাংলাদেশ সোসাইটির ‘মেম্বার ইন গুড স্ট্যান্ডিং’ হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এই দুই পদে প্রার্থীকে নির্বাচনী বছর পর্যন্ত অন্তত তিনটি টানা ক্যালেন্ডার বছর সংগঠনের সদস্য হিসেবে গুড স্ট্যান্ডিংয়ে থাকতে হবে। এ জন্য বর্তমান বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে সদস্যপদের অবস্থান সম্পর্কিত নোটারাইজড প্রমাণপত্র নিয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তফসিল অনুযায়ী, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করা যাবে না। এছাড়া সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালনকালে একই ব্যক্তি অন্য কোনো সংগঠনে একই পদে থাকতে পারবেন না। এ বিষয়েও প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নোটারাইজড হলফনামা জমা দিতে হবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যূনপক্ষে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হতে হবে। প্রার্থী নিজে মনোনয়ন জমা দিলে তাকে তার রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মূল নথি এবং একটি কপি কমিশনের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিনিধি দিয়ে জমা দিলে নথির সত্যতা সম্পর্কিত হলফনামা ও নোটারাইজড কপি জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগের সাত বছরের মধ্যে কোনো ক্রিমিনাল কোর্টের ফৌজদারি রায় থাকলে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না। ভোটার তালিকায় কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে সদস্যদের বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
উপযুক্ত কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভোটার তালিকার ভুল সংশোধনের দায়িত্ব থাকবে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির ওপর। কোনো সংশোধন করা হলে তা ২৩ আগস্ট রোববারের মধ্যে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।
কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ আগস্টের পর ভোটার তালিকায় আর কোনো সংশোষন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার কোনো অনিয়ম কিংবা বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র বা নির্বাচনী বিধির অসঙ্গতির জন্য কমিশন আইনগত বা অন্য কোনোভাবে দায়ী থাকবে না।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী নির্বাচনী বিধি বা বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার যেকোনো সময় তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
এছাড়া গঠনতন্ত্র বা নির্বাচনবিধিতে কোনো বিষয় অস্পষ্ট, অনির্ধারিত বা পরস্পরবিরোধী হলে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। প্রয়োজন হলে প্রকাশিত শর্তে সংশোধন বা অতিরিক্ত বিধান সংযোজনের ক্ষমতাও কমিশন সংরক্ষণ করেছে।
নির্বাচনসংক্রান্ত চিঠিপত্র, নোটিশ, ঘোষণা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের ওপর থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক একটি নট-ফর-প্রফিট, ট্যাক্স-এক্সেস্পট সংগঠন। ৫০১(সি) (৩) সামাজিক-সাংস্কৃতিক আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বিতরণ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসব্যাপী নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে ১৮ অক্টোবর রোববার ভোটের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী নেতৃত্ব বেছে নেবেন সোসাইটির ভোটাররা।

















