ছবি - নবযুগ
বাংলাদেশের জুলাই আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী জুলাই রেভল্যুশন কমেমোরেশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট (শনিবার) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণ, আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি দেশ বিদেশের শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, কবি, লেখক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতারা সরাসরি এবং অনলাইনে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন আলিফ নাবিলা ও আব্দুল কাদের।
বক্তারা জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে নয়, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, আন্দোলনের সময় মানুষের আত্মত্যাগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও নির্যাতন, আয়নাঘর, শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সরাসরি বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জন রিভস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ, ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলী ইমাম শিকদার, ম্যাগেলান অ্যারোস্পেসের মানবসম্পদ পেশাজীবী মুহতাসিম মাহি রহমান, সংগীতশিল্পী ও কবি নজরুল ইসলাম, ঊনবাঙালের প্রতিষ্ঠাতা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, প্রবাহ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদের সদস্যসচিব কবি সোহেল হামিদ, কবি আবুল বাশার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, মীর মাসুম আলী, আইকিউএনএর মাহতাব উদ্দিন খান, প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ-এর আব্দুল আলীম, দীপন গাজী ও আজিজুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন উই আর দ্য পিপলের মানবাধিকারকর্মী জ্যাকব মিল্টন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শাহ নেওয়াজ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নীরা, সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরান আনসারী, প্রভাষক ও প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ-এর প্রফেসর আবিদ বাহার, ডা. জুন্নুন চৌধুরী, প্রফেসর শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া, বারুখ কলেজের অধ্যাপক জামেল কয় হাডসন, প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ-এর ড. শেখ মিজান, লেখক মিসবাহ উদ্দিন এবং লেখক আবুল কালাম আজাদ।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হলে শুধু স্মরণসভা আয়োজন করলেই হবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে সত্যনিষ্ঠভাবে আন্দোলনের ইতিহাস, মানুষের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক ইমাম উদ্দিন চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী তাসের মাহমুদ, বিএএজি-এর সভাপতি জয়নাল আবেদিন এবং কলামিস্ট, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিমন ইসলাম। এছাড়াও নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার, পেশাজীবী ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহৎ মিলনমেলা ও মতবিনিময়ের পরিসরে পরিণত হয়।
দেশ বিদেশ থেকে অনলাইন ও বিশেষ সংযোগে বক্তব্য রাখেন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রফেসর শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট ও কলামিস্ট ড. টম। তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে বক্তব্য দেন।
এছাড়া এলইডি পর্দায় ধারণকৃত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মানবাধিকারকর্মী, আলোকচিত্রী ও লেখক ড. শহিদুল আলম। তাঁদের বক্তব্যে জুলাই বিপ্লব, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী সুরাইয়া আক্তার সাইফার ‘শ্রাবণের বিপ্লব’ পরিবেশনা এলইডি পর্দায় প্রদর্শিত হয়। পরিবেশনাটিতে জুলাইয়ের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বিপ্লবের চেতনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বক্তারা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

















