ছবি: সংগৃহীত
গ্রিক দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চোবানি ইনকর্পোরেটেড আশা করছে, এ বছর তাদের রাজস্ব এবং আয় উভয়ই ব্যাপকভাবে বাড়বে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি তার প্রবৃদ্ধির জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
বেসরকারি মালিকানাধীন এই খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির জন্য ২০২৫ সাল ছিল খুবই সফল। সেই বছর তাদের রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ২৯% বেড়ে ৩.৮ বিলিয়ন (৩৮০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে। ফলাফলগুলো এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তারা আরও জানান, গত বছর কোম্পানিটি সুদ, কর এবং অবচয় বাদ দেওয়ার আগে প্রায় ৭৬৮ মিলিয়ন (৭৬ কোটি ৮০ লক্ষ) ডলার সমন্বিত আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১% বেশি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, চোবানি আশা করছে ২০২৬ সালে তাদের বিক্রয় ৪.৬ বিলিয়ন (৪৬০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা গত বছরের তুলনায় ২০% বেশি। একই সময়ে তাদের সমন্বিত আয়ের পরিমাণ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের উপরে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চোবানি কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
দই ছাড়াও চোবানি বর্তমানে ক্রিমার, ওট মিল্ক (ওট দুধ) উৎপাদন করে এবং কফি ব্র্যান্ড ‘লা কলম্ব’-এর মালিকানাও তাদের হাতে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি আইডাহোর টুইন ফলসে তাদের একটি প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ করছে, যার ব্যয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত বছর তারা নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসের কাছে ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি নতুন কারখানার কাজ শুরু করেছে।
তবে এই উদ্যোগগুলো বেশ ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চোবানি প্রায় ৮৫০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা তাদের নগদ অর্থ প্রবাহের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গত অক্টোবর মাসে তারা ইক্যুইটি ক্যাপিটালের মাধ্যমে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, চোবানি সম্ভবত তাদের বন্ডের বিপরীতে নগদ সুদ প্রদান শুরু করবে। বর্তমানে এগুলো ‘পেইড ইন-কাইন্ড’ পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হয়, যার অর্থ হলো পাওনাদারদের নগদের বদলে অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
ব্লুমবার্গের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালে মেয়াদ পূর্ণ হতে যাওয়া তাদের ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ‘সিনিয়র আনসিকিউরড নোট’ (বন্ড) বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারে ১০৭ সেন্ট মূল্যে লেনদেন হয়েছে।

















