ছবি: সংগৃহীত
অধুনা নিজের অবস্থা কিংবা মর্যাদা কি করে উচ্চে রাখা যায় এমন এক লোক দেখানোর প্রবণতা বা প্রতিযোগিতা গোটা বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে গেছে।
এদিক থেকে আমরা তো কয়েক কাঠি এগিয়ে। কেননা সকল নেতিবাচক ক্রিয়া কর্মে আমাদের অগ্রসরতা দেখার মত! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের সূত্রে মানুষ তার প্রকৃত বাস্তবতা ঢেকে রেখে প্রদর্শন করছে মনগড়া ও মেকি বিষয়াদি। যা দেখিয়ে দেখিয়ে নিজেকে তুলে ধরার তুমুল আনন্দে নাচছে সবাই। নিজেকে নিয়ে মিথ্যা মিথ্যি তারাই বেশি করে যাদের ভেতরটা বেশি খালি।
প্রকৃত শিক্ষিত এবং জ্ঞানীজন কখনোই নিজেকে জাহির করায় ব্যস্ত হন না। যার জন্যেই এমন জনশ্রুতি যে ‘শূন্য কলসি বাজে বেশি‘। যে মানুষ আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সে নিজেকে বোঝানোর জন্য অতিরিক্ত প্রচারণায় মত্ত হন না। সে নিরব থাকেন তার বুদ্ধিমত্তা ও শক্তিমত্তা নিয়ে। তার শক্তি জানান দিতে সে হুংকার দেন না। অন্যদিকে অন্তসারশূন্য ব্যক্তি নিজেকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করে শান্তি সুখ বা আত্মতৃপ্তি খোঁজে। আত্মসম্মানবোধ কম থাকা মানুষজন নিজের মূল্য বাড়ানোর জন্য বাহ্যিক বিষয়াদির উপর ভর করে, মূলত তাদের দুর্বলতা ঢাকতে। তারা আত্মপ্রদর্শনে প্রচুর সময় ক্ষেপন করেন। অনেকে তার প্রয়োজনের জন্য নয় বরং অন্যদের প্রভাবিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করে। যেই বিষয়টি সমাজে অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেয় ও মানুষের মনে হীনমন্যতা বাড়ায়। হিংসা-বিদ্বেষ রেষারেষি বাড়ায় এবং সর্বোপরি মানুষে মানুষে আন্তরিকতা কমায়।
অতিরিক্ত প্রদর্শন যেমন ব্যক্তির দুর্বলতা প্রকাশ করে তেমনি সামাজিক বৈষম্য ও বন্ধুরতাও তৈরি করে। মহান মানুষেরা কখনো নিজেদের বড় করে প্রদর্শনের চেষ্টা করেননি। সংযম ও বিনয় ভাবই তাদের জীবন আচরণে প্রকাশ পায়। অন্যদিকে যারা নিজেকে প্রদর্শনে ব্যস্ত তারা ক্রমেক্রমে নিজেকে অন্যের অসন্তোষের পাত্রে পরিণত করে। জেনে রাখুন শো অফ কখনোই প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেনা। তাই আসুন নিজেকে প্রশ্ন করি, শুন্য কলসি হয়ে নিজেকে বাজাবো নাকি কলসি পূর্ণ করতে ব্রত হবো? লেখক: অভিনেতা।

















