শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিয়ম ভাঙতে  ‘কালো বিদ্যা’  ব্যবহার!

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়ম ভাঙতে  ‘কালো বিদ্যা’  ব্যবহার!

ছবি সংগৃহীত

জর্জ লুকাসের বহু প্রতীক্ষিত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের জাদুঘরটি ক্যালেনিয়ার সরকারি কাজের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করতে তাদের বেসরকারি মর্যাদাকে ব্যবহার করেছে। একই সাথে তারা বার্ষিক মাত্র ৩০ ডলারের বিনিময়ে রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণকাজ চালানোর বিশেষ সুবিধাপূর্ণ চুক্তিও ভোগ করছে। এক ঠিকাদার এই দাবি করেছেন।

এলএ টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সপজিশন পার্কের এই বিশাল প্রকল্পে কাজের পাওনা না পাওয়ার অভিযোগে বৈদ্যুতিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘জে.ই. স্নাইডার ইলেকট্রিক’  লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট-এর বিরুদ্ধে ১.৯ মিলিয়ন (১৯ লাখ) ডলারের একটি মামলা দায়ের করেছে।
বিরোধের মূল কেন্দ্রে রয়েছে জাদুঘরটির জন্য সরকারি মালিকানাধীন জমির অস্বাভাবিক চুক্তিটি, এটি একটি ৯৯ বছরের ইজারা, যার বার্ষিক ভাড়া মাত্র ৩০ ডলার।
জাদুঘরের আইনজীবী অরিন স্নাইডার দ্য টাইমসকে বলেন, ‘লুকাস মিউজিয়াম আমেরিকান ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি সাংস্কৃতিক অনুদান : ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যার প্রতিটি পয়সাই বেসরকারি। এতে কোনো সরকারি তহবিল, সরকারি অর্থায়ন বা সরকারি ঋণ নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, এটিকে ‘সরকারি কাজ’ বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন ও মনগড়া। যে সাব-কন্ট্রাক্টরের সাথে জাদুঘরের সরাসরি কোনো চুক্তিই নেই, তারা সাধারণ পাওনা সংক্রান্ত বিবাদে বাড়তি সুবিধা আদায় করতেই এমন গল্প সাজিয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের যুক্তি, এই নামমাত্র ভাড়া একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ মাত্র, যা শেষ পর্যন্ত রাজ্য ও সাধারণ জনগণেরই উপকারে আসবে।
তবে জে.ই. স্নাইডার ইলেকট্রিকের যুক্তি, এই অবিশ্বাস্য কম ভাড়ার ইজারাটিই পুরো প্রকল্পের আইনি চরিত্র বদলে দিয়েছে।
আইনজীবী ক্রিস্টোফার হুক বলেন, ‘আমাদের দাবি, ভাড়ার এই বিশেষ ছাড়ের কারণেই প্রকল্পটি ‘সরকারি কাজ’-এর আওতায় পড়ে। দিনশেষে এটি আইনি বিষয় এবং আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির আরও অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়া সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ‘পেমেন্ট বন্ড’ পেতে ব্যর্থ হয়েছে এই জাদুঘর। এই বন্ডটি ঠিকাদারদের পাওনা সুরক্ষায় সাহায্য করে। এছাড়া রাজ্য শিল্প সম্পর্ক বিভাগের সাথেও এটি সরকারি প্রকল্প হিসেবে কখনোই নিবন্ধিত হয়নি।
জে.ই. স্নাইডার ইলেকট্রিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন স্নাইডার জানান, এই পাওনা বিবাদের কারণে তাদের কোম্পানি ঋণে ডুবে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাদের কাছ থেকে আমরা পাওনা অর্থ পাচ্ছি না, তাই বাধ্য হয়ে ঋণ পরিশোধের সুদ মেটাতে আমাদের আবার নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে।’
দীর্ঘ বিলম্বের পর নির্মাণকাজ শুরুর ঠিক আট বছর পর, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এক্সপজিশন পার্কে যখন জাদুঘরটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই আইনি লড়াই সামনে এলো।
 

শেয়ার করুন: