শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

গল্পের তীব্র প্রতিবাদ

কুকুরের বাড়ি সংস্কারে  ২০ লাখ ডলার

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুকুরের বাড়ি সংস্কারে  ২০ লাখ ডলার

ছবি সংগৃহীত

অনেকে যা ভাবছেন তা সত্য নয়, তারা শুধুমাত্র নিজেদের কুকুরের জন্য বাড়ি সংস্কারের পেছনে ২০ লাখ ডলার খরচ করেননি। হাওয়ার্ড ও সুজি রুবিন দম্পতি মিডসেঞ্চুরি-মডার্ন ধাঁচে নির্মিত পাউন্ড রিজের বাড়িটি ২৯ লাখ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন।

একই সাথে তারা একটি ভাইরাল হওয়া গল্পের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছিল তারা তাদের ৯ বছর বয়সী বিয়ার্ডেড কলি জাতের কুকুর ‘বাস্টার’-এর সুবিধার্থে সম্পত্তিতে ২০ লাখ ডলার ঢেলেছেন।
হাওয়ার্ড রুবিন মিডিয়াকে বলেন, ‘আমরা কুকুরের জন্য বাড়ি সংস্কার করতে গিয়ে ২০ লাখ ডলার খরচ করিনি।’
তিনি জানান, সংস্কারের পুরো বাজেটটি পুরো সম্পত্তি আমূল বদলে ফেলার পেছনে খরচ হয়েছে, যার মধ্যে মেকানিক্যাল সিস্টেম ও সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ইন্টারনেট অবকাঠামো এবং একটি অতিরিক্ত গ্যারেজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল (যে গ্যারেজটির পেছনেই খরচ হয়েছে কয়েক লাখ ডলার)।
বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞপ্তিটি দেখে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে এই দম্পতিকে বার্তা পাঠান। সাধারণ মানুষ যখন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, তখন একটি কুকুরের পেছনে লাখ লাখ ডলার উড়ানোর জন্য তারা দম্পতির সমালোচনা করেন।
তবে ডগলাস এলিম্যান এজেন্সির রিয়েল এস্টেট এজেন্ট স্যালি স্লেটার, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রুবিন দম্পতির সাথে কাজ করছেন, তিনি জানান যে এসব আধুনিকায়ন মূলত রুবিনের নিজস্ব নিখুঁত স্বভাবের কারণে করা হয়েছে।
স্লেটার বলেন, ‘নিজের যেকোনো চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে উনি অত্যন্ত নিখুঁত।’
পুরো বাড়ি ও আশপাশের জমি নজরদারির জন্য ১৬টি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রধান ব্যবস্থা বিকল হলে ব্যাকআপ হিসেবে দুটি বড় আকারের জেনারেটর এবং দুটি আলাদা ইন্টারনেট সংযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি কোনো উইপোকা না পাওয়ার পরও রুবিন আগাম সুরক্ষার জন্য অ্যান্টি-টারমাইট সিস্টেম বসিয়েছেন।
হান্টার কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা ‘রুবিন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হাওয়ার্ড রুবিনের সোজা বক্তব্য : ‘আমি সবকিছু নিখুঁতভাবে কাজ করতে দেখতে পছন্দ করি।’
তবে বাড়ি সংস্কারের ফলে বাস্টারও যে অনেক সুবিধা পেয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না।
২.৭৬ একর জমির ওপর নির্মিত ৪,৪৪২ বর্গফুটের এই বাড়িটিতে রয়েছে ৪টি বেডরুম ও ৩.৫টি বাথরুম। বাস্টারকে হরিণ ও কায়োটি (এক ধরনের শেয়াল) থেকে নিরাপদে আলাদা রাখতে পুরো সীমানা ঘেরা দেওয়া হয়েছে, সাথে রয়েছে গৃহপালিত পশুর উপযোগী ঘাসের উঠান ও পর্যাপ্ত ছায়া।
বাস্টার পানি পছন্দ করলেও ভালো সাঁতার কাটতে পারে না, তাই সুইমিং পুলটি এমনভাবে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সেখানে একটি অগভীর জায়গা থাকে যেখানে সে পানি ছিটিয়ে আনন্দ করতে পারে।
ঘরের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে ৯টি টিভি রয়েছে। রুবিন জানান, বাস্টার একটি টিভির সামনে বসে তার প্রিয় শো ‘প প্যাট্রোল’ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়তে পছন্দ করে।
বাড়ির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত সুবিশাল কাচের জানালা দিয়ে সে মেঝেশোয়েই বাইরে ঘুরে বেড়ানো হরিণগুলোর ওপর নজর রাখতে পারে।
ফ্লোরিডার প্রখর গরম সহ্য করতে না পেরে রুবিন দম্পতি ২০১৯ সালে ১.৮২ মিলিয়ন (১৮.২ লাখ) ডলারে এই বাড়িটি কেনেন। প্রথমে তারা এটি নিজেদের অবসর কাটানোর জায়গা এবং পোষ্যবান্ধব ভাড়াটেদের দেওয়ার কথা ভাবলেও কোভিডের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়।
তবে প্রাণীদের ঘিরে জীবন গড়ে তোলা এই দম্পতির জন্য নতুন কিছু নয়।
রুবিনের বেড়ে ওঠা ব্রঙ্কসে এবং সুজির কুইন্সে। তাদের ৫৬ বছরের বিবাহিত জীবনে কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে খরগোশ, হ্যামস্টার ও ঘোড়া পর্যন্ত সব ধরণের প্রাণী তারা পালন করেছেন। সুজি আগে একজন ভেটেরিনারি টেকনিশিয়ান এবং জরুরি চিকিৎসা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
তাদের ছেলের বয়স যখন ৬ বছর এবং সে ঘোড়ায় চড়া শিখতে শুরু করে, তখন তারা সাউথ সালেমে ‘পিস অ্যান্ড ক্যারটস’ নামের একটি ছোট ঘোড়ার আস্তাবল কেনেন। স্লেটার তাদের সেই সম্পত্তি কেনা ও পরবর্তী সময়ে বিক্রি করতে সাহায্য করেছিলেন।
রুবিন জানান, ১৯৯৬ সালের অলিম্পিক দলের সদস্যরা সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং ‘সুপারম্যান’ খ্যাত অভিনেতা ক্রিস্টোফার রিভও ছিলেন তাদের অন্যতম গ্রাহক।
বর্তমানে ৯ বছর বয়সী বাস্টারের বাতের সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা রুবিন দম্পতির বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ।
দম্পতি ফ্লোরিডার একতলা বাড়িতে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে বাস্টারকে পাহাড়, সিঁড়ি, বরফ বা পিছল পথ নিয়ে কষ্ট করতে হবে না।
রুবিন বলেন, ‘সে আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য।’
 

শেয়ার করুন: